Capture66_copyএকটি দেশের সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম হচ্ছে সে দেশের দর্পণ স্বরূপ। ভালো-মন্দের বৈচিত্রতার এই গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকগণ প্রতিনিয়ত জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। কলম-ক্যামেরার যাদুশৈলীতে সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা হিসেবে বিবেচিত। এ পেশায় বৈচিত্রমুখী ঘটনার সম্মুক্ষীন হয়ে একজন কলম সৈনিক একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে গড়ে উঠে। দিন রাত সমাজের নানা দিক তুলে ধরতে ছুটে চলেন অবিরাম। সমাজের সঠিক চিত্র উঠে আসে তার কলম-ক্যামেরায়। এ সাহসী পেশায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন অনেক সাংবাদিক। অনেকেই হয়েছেন নির্যাতিত, হয়েছেন হয়রানির শিকার। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের সাতাশটি দেশে হত্যা করা হয়েছে ৯০ জন সাহসী সাংবাদিককে। সঠিক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে যদি এভাবে অকালেই চলে যেতে হয় তাহলে সাংবাদিকদের কলম কতটুকু স্বাধীন? একজন সাংবাদিকের দোষ কি তাহলে সত্য তুলে ধরা? জাতির বিবেক হয়ে যদি দেশের মাটিতে স্বাধীনতা না থাকে তাহলে কি করে চলবে এ কলম? এ পর্যন্ত ক’জন সাংবাদিক হত্যার সঠিক বিচার হয়েছে? রাষ্ট্রযন্ত্র কেনই বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নেয় না? সাংবাদিকরা কি দেশের নাগরিক নয়! সাংবাদিকদের নাগরিক অধিকার কি বাস্তবতার স্বপ্ন!

৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কার্য হবে একটি অপরাধ। এই অপরাধের জন্য অনধিক ১৪ বছর ও অন্যূন ৭ বছর কারাদ- এবং অনধিক ১ কোটি টাকা অর্থদ- দেওয়া যাবে।’ ২০০৬ সালে আইসিটি আইন প্রণয়ন করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়।

এই আইনে নয়টি অধ্যায়ে মোট ৯০টি ধারা যুক্ত করা হয়। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, তার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ফেসবুক, ইউটিউব ইত্যাদি ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই আইনের অপব্যবহার বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিষয়টি অনুধাবন করে সরকার ২০১১ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংশোধন আনার চিন্তা শুরু করে এবং এই আইনের শাস্তি ও আইন প্রয়োগে পরিবর্তন আনার চিন্তা করে। অবশেষে ২০১৩ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন করে এ আইন প্রণয়ন করা হয়। একই বছরের ৮ অক্টোবর সংসদে আইনটি সংশোধিত আকারে পাস করা হয়। সচেতন মহলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনটি সংশোধন করে ২০১৩ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর থেকেই সমালোচনা শুরু হয়। এই আইনে পুলিশকে সরাসরি মামলা করার ও ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই আইনকে সামনে রেখে এর অপব্যবহার অনেকগুণ বেড়েছে। এই আইনের অপব্যবহারের ফলে অনেককে জেলজুলুমসহ হয়রানির স্বীকার হতে হয়েছে এবং হচ্ছে।

একটি বিষয় আমরা খেয়াল করি ‘সাংবাদিক’ শব্দটি লিখতে শুরুতে দন্তস্য ‘স’ আকার লাগে আর ‘সাতান্ন’ লিখতে দন্তস্য ‘স’ আকার লাগে। এ ক্ষেত্রে বলা যায়, সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারার কোথায় যেন একটা মিল রয়েছে। এই মিলের বিষয়টি নিতান্তই রসিকতা, মনগড়া। কিন্তু বর্তমানে ৫৭ ধারার নামে সাংবাদিকদের মনে যে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তাতে কিছুটা হলেও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন তৈরিতে প্রভাব পড়বে। ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে যে একটি দেশের সাংবাদিকেরা কি শুধু দেশের ক্ষমতাসীন দলের প্রশংসা করে যাবে? তাদের সমালোচনা করার সুযোগ না থাকলে সরকারের ভুলক্রটিগুলো কিভাবে তারা মেলে ধরবে প্রতিবেদনে? জনগণের দুর্ভোগের কথা যদি প্রতিবেদনে তুলে না ধরা যায়, তা হলে কেন্দ্রে বসে সরকার প্রধান কিভাবে সেই সমস্যার সমাধান করবেন? সরকারে থাকা লোকজন যদি কোনও দুর্নীতির সঙ্গ জড়িয়ে যান আর সরকার প্রধান সেই তথ্য না জানেন, তা হলে ধীরে ধীরে ভাবমূর্তি তো সরকারেরই ক্ষুণœ হবে। সরকারের জনপ্রিয়তা একসময় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। যুগের পর যুগ সাংবাদিকরা সরকারের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করে আসছে যাতে করে সরকার বুঝতে পারে তারা আসলেই কি করছে। কিন্তু বর্তমানে এই পথ বলতে গেলে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।

‘রাজনীতি’ শব্দটা এমন এক পর্যায়ে চলে গেছে যে, সংবাদকর্মীরাও এর থেকে দূরে নেই। মুখে মুখে অনেক বড় কথা বলে থাকেন আমাদের অনেক সাংবাদিক। কিন্তু ক্ষমতা আর লোভের কাছে তাদের সেই নীতিকথা কখনও কখনও ‘ক্ষমতাগীতি’ হয়ে বাজে কানের কাছে। আর এই কারণে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় সাংবাদিক মহল। সরকারের লেজুড়বৃত্তি ছাড়া আর কিছু করতে পারে না তখন। বিষয়টি খুব পরিষ্কার বোঝা যায় বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে। যেমন যে ব্যক্তি আজ এক সরকারের আমলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে বলছেন, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম এখন সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে; সেই ব্যক্তিই তার অপছন্দের সরকারের আমলে বলবেন, দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই বললেই চলে।
এই হচ্ছে আমাদের সংবাদকর্মীদের সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়।

একাধিক আইনজীবী এই ধারাটির বিরোধিতা করে বলেছেন, সরকার অনেক সময় ভালো উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়ন করলেও তার অপব্যবহারের ফলে মানুষের হয়রানি বাড়ে। ৫৭ ধারাটিই মানুষের, বিশেষ করে সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্য করেছে। তাই এই ধারাটি বাতিল করা উচিত। আইনজীবীরা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বিশ্লেষণ করে বেশ কিছু অস্পষ্টতা দেখতে পেয়েছেন। এই আইনে বলা হয়েছে, মিথ্যা ও অশ্লীল, নীতিভ্রষ্টতা, মানহানি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি ইত্যাদি অপরাধ। কিন্তু সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নীতি বা নৈতিকতার কথা বলা থাকলেও কোনো কোনো বিষয়বস্তুকে অশ্লীল বা মিথ্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হবে, তা এই ধারায় সুস্পষ্ট করা হয়নি। এক্ষেত্রে এই আইনে সুনির্দিষ্ট স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। এসব কারণেই এই আইনের অপ্রয়োগের অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। তাই এই আইনটি বাতিল হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

সাংবাদিক নেতারা এই আইনটির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই আইনটির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। মুক্ত মতপ্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ৫৭ ধারা। কোনো সংবাদ পরিবেশন যদি কারো বিপক্ষে যায় তা হলে এর জন্য প্রেস কাউন্সিল রয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রচলিত আইনেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ৫৭ ধারার যেভাবে অপব্যবহার হচ্ছে তা সাংবাদিক মহলকে ভাবিয়ে তুলছে।
এদিকে সংবিধানের ৩৯(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘৩৯। (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল। (২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে (ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং (খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।’ আইনজীবীদের মতে, সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদের ২(ক)-এর সঙ্গে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা সাংঘর্ষিক। এখানে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আইসিটি আইনে তাতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।’ ‘(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক চৌদ্দ বৎসর এবং অন্যূন সাত বৎসর কারাদন্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদন্ড দন্ডিত হইবেন।’ অন্যদিকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি সরবরাহ করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদ- এবং ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা পর্যন্ত অর্থদ-িত হইবেন।’ আইনজ্ঞদের মতে, একই ধরনের অপরাধে দুই আইনে দ-ের এমন পার্থক্য এক ধরনের বৈষম্য। একই সঙ্গে এটা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সাংবাদিকেরা প্রতিদিন সরকারি বাহিনী কিংবা উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে হুমকি পাচ্ছেন। শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করার মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারা কী বুঝি? দেশের কলমযোদ্ধারা কখনও সত্যের বলয় ছেড়ে আলাদা হবে না। তারা তাদের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সত্য বলে যাবে। কিন্তু আজ লোভের কাছে সেই বিবেকবানেরা বিভক্ত। যখন সরকারের কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছেন তখন সেই সরকারের প্রশংসা করছেন। সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি ও সরকারের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধাভোগ করার মানসিকতা যতদিন থাকবে, ততদিন ‘প্রেস ফ্রিডম’, ‘প্রেস ফ্রিডম’ বলে গলা ফাটিয়ে কোনও লাভ হবে না। কারণ আজ আপনি ফ্রিডম নেই বলছেন, আগামীতে যখন আপনার পছন্দের দল ক্ষমতায় আসবে, তখন আবার এই আপনিই বলবেন দেশে ‘প্রেস ফ্রিডম’ আছে। আর আজ যারা বলছেন, ফ্রিডম আছে, তারা তখন বলবেন, নেই।
আমাদের দেশে ৫৭ ধারায় কাউকে গ্রেপ্তার করলে ক’জন সাংবাদিক এক হয়ে রাজপথে নামেন? এক্ষেত্রে পত্রিকার পাতায় একটু সংবাদ পরিবেশন করেই কেউ কেউ দায় সারেন। আসল আন্দোলনের ধারে কাছেও যান না। একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনার কাছে যখন ওই ৫৭ ধারা এসে হাজির হবে, তখনই বুঝবেন এর হয়রানির মাত্রাটা কেমন। সুতরাং এর আগেই বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবুন।

আমার মনে হয় একজন প্রকৃত সাংবাদিক সব সময় দেশের সংবিধান ও আইন মেনেই চলেন। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোন খবর তৈরি করেন না। দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, সাংবাদিকরা কোন কালেই কারো প্রতিপক্ষ ছিলেন না। এখনো নেই এবং আগামীতেও থাকবে না। সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যত বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়েই তারা এই শঙ্কাকুদল পেশায় কাজ করেন। সাংবাদিকরা দুরন্ত সাহস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন বিধায় দেশ থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি রুখে দেওয়া যায়। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে। জনকল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। আর তাই সরকারের উচিত হবে, দেশের স্বার্থে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশে নাটকীয়ভাবে বেশ ক’জন সাংবাদিককে আটক ও নাজেহাল করার পর থেকেই মূলত এই আইন নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করে সব মহলে। সাংবাদিকরাও সোচ্চার হচ্ছেন এই আইনের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে এই আইন বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট মামলা করা হয়েছে, যা এখনো বিচারাধীন। সাংবাদিকরা আশা করছেন, উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একটি সঠিক নির্দেশনা দেবেন। তবে এর সুরাহা কবে হবে তা কারও জানা নেই। তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে বহুল আলোচিত ৫৭ ধারা সরিয়ে তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাখা হবে কি না- আগামী অগাস্ট মাসে তা জানা যাবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্তে সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমরা বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আলাপ-আলোচনা করে যেসব কথা বেরিয়েছে সেটার একটা রূপরেখা করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মধ্যে এনে আগামী আগস্ট মাসে চূড়ান্ত ড্রাফট নিয়ে নিয়ে আবার মিটিংয়ে বসব। সেই মিটিংয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। সেখানে ৫৭ ধারা সম্বন্ধেও আমাদের সিদ্ধান্ত আপনারা পাবেন। কিন্তু এখন আমরা কোনো সিদ্ধান্তেই উপনীত হইনি বলেই এর বেশি আর কিছু বলতে চাই না।

বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারা সাংবাদিকদের মতপ্রকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধারার ব্যবহার ও অপব্যবহারে ইতোমধ্যে বেশ ক’জন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাতে দেখা গেছে দেশের প্রতিভাবান তরুণ সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারুণ্যদিপ্ত তরুণরা হারিয়ে ফেলছে সঠিকভাবে কাজ করার মন মানসিকতা। নীতি-নৈতিকতার পথ ভুলে অনেকেই চুপ থাকার মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। দেশ-জনতার কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই ধারাটি বাতিল করা না হলে এটি এক সময় কালো আইন বলে সাধারণ মানুষের কাছে বিবেচিত হবে। এ আইনটি নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে বিতর্ক চলছে। এই বিতর্কের দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। যাতে করে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত কর্তব্য সঠিক সময়ে সঠিকভাবে পালন করতে পারে।