nirbhiknewsপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজধানী ঢাকায় নতুন খাল খনন, পুরনো খাল সংস্কার ও জলাধার সংরক্ষণে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বিভাগীয় সদরগুলোয় ভূ-উপরিস্থিত নিরাপদ পানি সরবরাহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী ‘ওয়াটার সামিট ২০১৭’-এর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) নির্ধারিত সময়সীমা ২০৩০ সালের আগেই আমরা শতভাগ মানুষকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করতে চাই। খবর বাসস।

জাতিসংঘের পানি ও স্যানিটেশন-বিষয়ক বিশেষ প্যানেলের সদস্য শেখ হাসিনা সম্মেলনে বলেন, শিল্পাঞ্চল, বসতিসহ সব এলাকায় জলাধার সৃষ্টি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বর্জ্য দূষিত পানি নিষ্কাশনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নাব্যতা হ্রাস প্রতিরোধে দেশের নদ-নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।

নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় সরকার গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৯ সালে প্রণীত জাতীয় পানিনীতি, ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড সুয়ারেজ অ্যাক্ট ১৯৯৬, ন্যাশনাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন অ্যাক্ট ২০১৪ এবং আর্সেনিক সমস্যা মোকাবেলায় ন্যাশনাল পলিসি ফর আর্সেনিক মিটিগেশন অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান ফর আর্সেনিক মিটিগেশন ফর ওয়াটার সাপ্লাই ২০১৬ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। গত আট বছরে এ দুই খাতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বর্তমানে খাত দুটিতে ৩২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান আছে।

লবণাক্ত পানিপ্রধান এলাকায় পুকুরের পানি ফিল্টার করে লবণাক্ততা মুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাত হাজার পুকুর ও ৩২ হাজার ৬০০টি গভীর কূপ খনন করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে তৈরি করা হয়েছে ৪ হাজার ৭০০টি জলাধার। ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাসহ সব বিভাগীয় শহরে ভূ-উপরিস্থিত পানি থেকে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলছে।

এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বের ২৪০ কোটি মানুষ স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, নিরাপদ পানির অভাবে প্রতি বছর বিশ্বে ১০ লাখ লোক মারা যায়, যাদের অধিকাংশই শিশু। বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন গড়ে এক হাজার শিশু বিশুদ্ধ পানির অভাবে প্রাণ হারায়। নিরাপদ পানি নিশ্চিতে সরকার এরই মধ্যে বিশেষ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এমডিজিতে ২০১৫ সালের মধ্যে ৮৪ শতাংশ লোকের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। ২০১৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে ৯৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে।

দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আওতায় এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশনের আওতায় এসেছে ৬১ শতাংশ। উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগের পরিমাণ গত আট বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়ে বর্তমানে ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ২০০৩ সালেও এর পরিমাণ ছিল ৪২ শতাংশ।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।