nirbhiknews_02আগামী অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গতকাল অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ বাদ দিলে মূল এডিপির আকার দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে বেশি বরাদ্দ দেয়ায় এডিপির আকার বেড়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। আরেক মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে ৫ হাজার ৫২৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে ৭ হাজার ৬০৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এডিপি অনুমোদন হওয়ার পর এ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী

আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এডিপির আকার দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমাদের চাহিদা বাড়ছে, রাজস্বও বাড়ছে। সুতরাং এডিপি বাস্তবায়ন করতে পারব না, এটা বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। তবে এডিপির আকার বাড়ানো হলেও ঘাটতি অর্থায়ন বাড়বে না। বিশ্বব্যাপী যে স্বীকৃত সীমা রয়েছে (মোট জিডিপির ৫ শতাংশ), তা মেনেই এডিপি অর্থায়ন করা হবে।

চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকার। সে তুলনায় আগামী অর্থবছরে ৪২ হাজার ৬৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ থাকছে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্প সহায়তা ও বৈদেশিক উৎস থেকে ৫৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য অন্য মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ৩ হাজার ৪২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এর বাইরে মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ২ হাজার ২২০ কোটি ও দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার ও রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে গুনধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়াল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে ১ হাজার ৫৬১ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অন্তর্ভুক্ত করে ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার নীতিকৌশল ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি কৌশল ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এডিপি। এসব লক্ষ্য নিয়েই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপির খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত এডিপিতে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ থাকছে পরিবহনে। এ খাতে বরাদ্দ ৪১ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুতে ১৮ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এছাড়া শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১৬ হাজার ৬৭৩ কোটি ৩১ লাখ, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে ১৪ হাজার ৯৪৯ কোটি ৭২ লাখ এবং বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১৪ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর কৃষি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৬ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে নতুন ৯০টিসহ প্রকল্প থাকছে মোট ১ হাজার ৩১১টি। নতুন প্রকল্পের মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ৭৭টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১২টি ও জেডিসিএফ একটি। এছাড়া আগামী অর্থবছরে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) বাস্তবায়নের জন্য ৩৬টি প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে।