http://nirbhiknews.com/wp-content/uploads/2018/06/Bangladesh2.jpgআফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে এক রানে হেরে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

শেষ বলে দারুণ নাটকীয়তা যেন কোটি মানুষের রিদস্পন্দন কয়েকগুন বাড়িয়ে দিয়েছিল। রান দরকার ৪। ব্যাটসম্যান আরিফুল হক সজোরে হাঁকালেন রশিদ খানকে। বল একেবারে সীমানায়। সীমানার বাইরেই চলে গিয়েছিল; কিন্তু লাফিয়ে উঠে শূন্যে থেকে সেকেন্ডেরও ভগ্নাংশের ব্যবধানে সেই বলকে বাউন্ডারির বাইরে থেকে ফিরিয়ে দিলেন শফিকুল্লাহ। কিন্তু তাতেও লাভ হল না।

সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয়ের জন্য ১৪৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৪৪ রানেই থেমে যেতে হলো বাংলাদেশকে। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর অসাধারণ একটি জুটিও হার বাঁচাতে পারলো না।

বৃহস্পতিবার ভারতের দেরাদুনের রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নেন আফগান অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানের সংগ্রহ করে আফগানরা।

এই রানের লক্ষ নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৩৫ রানেই প্রথম ৩ উইকেট হারায় তারা। ৫ রান করে বিদায় নেন তামিম ইকবাল। ১২ রান করেন আরেক ওপেনার লিটন দাস। আর এ ম্যাচেও সফলতা পাননি ১৫ রান করা সৌম্য সরকার।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকলে পরে টাইগারদের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও টিকতে পারেননি। ১০ রান করে ফেরেন তিনি। দারুণ খেলে শেষ দিকে আউট হন মুশফিকুর রহিম। ৩৭ বলে ৭টি চারে ৪৬ রান করেন তিনি।

রিয়াদ ৪৫ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। ৩৮ বলে তিনি ৩টি চার ও দু’টি ছয়ে ৪৫ রান করেন।

আফগান বোলারদের মধ্যে ১টি করে উইকেট পান মুজিব উর রহমান, করিম জানাত ও রশিদ খান। ম্যান অব দ্যা সিরিজ রশিদ খান হলেও ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার ওঠে মুশফিকের হাতে।

ভারতের দেরাদুন সত্যিই আফগানদের হোম গ্রাউন্ডে পরিণত হয়েছে যেন। তিন ম্যাচের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়ে যায়। তৃতীয় ম্যাচটি তাই বাংলাদেশের জন্য মান রক্ষার ম্যাচে পরিণত হয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৫/৬ (শাহজাদ ২৬, গনি ১৯, স্টানিকজাই ২৭, শেনওয়ারি ৩৩*, নবি ৩, নাজিবুল্লাহ ৪, রশিদ ১*; মিরাজ ০/২৭, নাজমুল ২/১৮, সাকিব ১/১৬, আবু হায়দার ০/৩১, সৌম্য ০/৮, আবু জায়েদ ২/২৭, আরিফুল ১/১৩)

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৪৪/৬ (লিটন ১২, তামিম ৫, সৌম্য ১৫, মুশফিক ৪৬, সাকিব ১০, মাহমুদউল্লাহ ৪৫, আরিফুল ৫*; মুজিব ১/২৫, আফতাব ০/২৮, নবি ০/২০, জানাত ১/৪৪, রশিদ ১/২৪)