Nirbhiknews_02শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নির্দশন তিনআনি জমিদারদের রং মহল। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে পৌনে তিনআনি জমিদার কিশোরী মোহন চৌধুরীর আমলে রং মহল, শীষ মহলসহ নানা সৌধ নির্মাণ করা হয়। সময়-সুযোগ পেলে ঘুরে আসুন একবার।

বৈশিষ্ট্য:
অপূর্ব কারুকার্যখচিত ভবনগুলোর মধ্যে উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত রং মহলের তিন অংশের প্রথম অংশ জমিদারদের খাস দরবার কক্ষ ও জলসা ঘর। দ্বিতীয় অংশে জমিদারদের খাস কামরা এবং তৃতীয় অংশে নায়েব-ম্যানেজারের কাচারি। রং মহলের প্রবেশ পথে দুটি দরজা। ডানদিকের দরজা বরাবর টানা লম্বা করিডোর। করিডোর ও ভেতরের অর্ধেক দেয়ালজুড়ে বিরাজ করছে রঙিন চিনাপাথরের ফ্রেসকো ও ফুল লতা-পাতার আঁকা টালি। রং মহলের ডানদিক ঘেঁষে শানবাঁধানো পুুকুর। পানিতে জলসা ঘর প্রতিবিম্বিত হয়। দীর্ঘ করিডোর ধরে প্রতিটি কক্ষে দরজার পাশে পিতল ও পাথরের নানা মূর্তি আর বিরাট আকারের ফুলদানি।

লাইব্রেরি:

জমিদার পরিবার ছিলো শিক্ষিত ও সংস্কৃতিমনা। তাদের জয় কিশোর লাইব্রেরি ভবন, অন্নপূর্ণা-গোপীনাথের মন্দিরে রয়েছে প্রাচ্য, পাশ্চাত্য ও মুসলিম স্থাপত্যরীতির অপূর্ব সমন্বয়। লাইব্রেরিতে ছিলো পাঁচ হাজারেও বেশি বই। অধিকাংশই বিজ্ঞান বিষয়ক।

সংস্কার:
জমিদার বাড়িটিকে কৃষি প্রশিক্ষণালয়ে রূপান্তরিত করা হলে লাইব্রেরি ভবনটি ভেঙে টিনশেডের শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। একসময় কৃষি প্রশিক্ষণালয়ের প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার হলেও এখন ব্যবহার হচ্ছে না।

জরাজীর্ণ:
ভবনটি এতোই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে যে, সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। স্থানে স্থানে সুরকির গাঁথুনি নড়বড়ে। পলেস্তরা খুলে পড়ে যায় যখন তখন। তাই স্থাপত্যগুলোর প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।