prime Minister‘মাঠ পর্যায়ের সাফল্য’ ও ‘প্রশিক্ষণে দক্ষতা’ই সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জাতির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা চিন্তা করে গণতন্ত্র সুসংহতকরণে দক্ষ দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের হাতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব থাকা উচিত।’

রবিবার (৯ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা সদর দফতরে আর্মি সিলেকশন বোর্ড-২০১৭’র বৈঠকে শেখ হাসিনা একথা বলেন।

জাতির উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলেও এ সময় আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা সদস্যদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অগ্রযাত্রায় তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। একথা মাথায় রেখেই ভবিষ্যতে ‘দক্ষ ও দেশপ্রেমিক’ কর্মকর্তাদের কাছে নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে চারটি বিশেষ গুণ থাকতে হবে। প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, সুশিক্ষায় শিক্ষিত, দেশ ও সমাজসেবার মানসিকতা এবং উন্নত নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। তৃতীয়ত, মাঠ পর্যায়ে সাফল্য থাকতে হবে। চতুর্থত, নেতৃত্বের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, নিয়মানুবর্তিতা, সততা এবং নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে।

তিনি সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য সিলেকশন বোর্ডকেও যোগ্যতার এসব মাপকাঠি বিবেচনায় আনার আহ্বান জানান। এসময় সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য চালু করা ‘ট্রেস (টিআরএসিই- টেবুলেটেড রেকর্ড এন্ড কম্প্যারেটিভ ইভালুয়েশন) পদ্ধতি’ পর্যবেক্ষণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেকশন বোর্ডের সদস্যদের প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস থাকা উচিত বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সিলেকশন বোর্ডের সদস্যরা সব ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আস্থাশীল, দক্ষ এবং দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদেরই পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করবেন।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনা প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় দুর্যোগে সেনা সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দিয়ে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ফলে সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।’ সম্প্রতি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি। সূত্র- বাসস।