nibhiknewsঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে থাকুন, ভিন্ন ঢাকা দেখবেন। প্রতি মাসেই বদলাবে ঢাকা। গতকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, বার্তাপ্রধান ও সিইওদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

‘ঢাকা উত্তর সিটি-প্রচেষ্টার ২ বছর’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ডিএনসিসি। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মেয়র আনিসুল হক বলেন, ঢাকাকে বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলতে দুই বছর ধরে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১১টি ইউলুপ স্থাপন ও নতুন আরো ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩০০টি রাস্তার উন্নয়নকাজ করা হবে। এছাড়া রাস্তায় চার হাজার আধুনিক বাস নামানো হবে।
সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৭৬৭ অস্থায়ী অবকাঠামো, ৫৪টি স্থায়ী স্থাপনা এবং ৪৫০টি স্থায়ী অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে। জমি, ফুটপাত ও ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুট। আমরা বুঝে না বুঝেই কিছু সাহসী কাজ করে ফেলেছি। ১০টি স্থানে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করেছি। বিভিন্ন দূতাবাসের দখলে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করছি।

আনিসুল হক বলেন, রাজধানীতে বিলবোর্ড ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে অনেক মাস্তান ছিল, তাদের তাড়িয়ে দিয়েছি। যাদের কারণে বিলবোর্ডে হাত দেয়া যেত না। ঢাকার সড়কে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানোর কারণে অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এ পর্যন্ত ২০ হাজার বিলবোর্ড ও ১ লাখ ৭৫ হাজার ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করেছি।
তিনি বলেন, আমরা দুই বছরে অনেক কাজ করেছি তা না, তবে একটা পরিকল্পনায় পৌঁছেছি। বলা হয়, ঢাকা শহর পৃথিবীর খারাপ শহরগুলোর মধ্যে প্রথম। ঢাকা নাকি বাসযোগ্য নয়। মেয়র হিসেবে আমি এর সঙ্গে একমত হতে পারি না।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে তুলনা করে আনিসুল হক বলেন, ঢাকা শহর আসলে কত বড়? সিঙ্গাপুরের আয়তন ৭১৮ বর্গকিলোমিটার। টোকিওর আয়তন ২ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার, যেখানে বাস করছেন ১ কোটি ২২ হাজার মানুষ। ক্যানবেরার আয়তন ৮১৪ বর্গকিলোমিটার, বাস করছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার মানুষ। মস্কোর আয়তন ২ হাজার ১৮৩ কিলোমিটার, কিন্তু লোক সংখ্যা ১ কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আয়তন মাত্র ৮৩ কিলোমিটার। এতে বাস করেন ৯০ লাখ মানুষ।
নগর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমিতি অসাধারণ কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কোনো স্থানে আমরা যা না করেছি, তারা তার চেয়ে বেশি করেছে। ডিএনসিসি এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

মেয়র বলেন, আমরা ৫০টির মতো এসটিএস নির্মাণ করেছি। কয়েকটি ওয়ার্ডে বেসরকারিভাবে তা দেয়া হয়েছে। তারা পরিষ্কার করছে। ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করেছি। ফলে একটি যানবাহন সিটি করপোরেশনের বাইরে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সে সিস্টেম করে দিয়েছি। প্রশাসনিকভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছি।
ফুটপাত বেদখলের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, এ দেশে গরিব হকারদের পাশাপাশি বড়লোক হকারও আছেন। তারা বছরের পর বছর জনগণের জায়গা দখল করে রেখেছিলেন। আমরা অনেক জমি ও ফুটপাত উদ্ধার করেছি। ডিএনসিসির ‘নগর অ্যাপ’ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, আমরা একটি নগর অ্যাপ করেছি। এখানে সবকিছু রয়েছে। আপনি চাইলে কোথায় কী আছে, তা সহজেই জানতে পারবেন। এর সঙ্গে পুলিশের একটা সংযোগ থাকবে।

অনুষ্ঠানে দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ও ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আব্দুর রাজ্জাক, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ আনোয়ারুল ইসলাম ও ডিএনসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা।