low-sparm-countলো স্পার্ম কাউন্ট অর্থাৎ পর্যাপ্ত শুক্রাণুর অভাবে কম বেশি সব পুরুষই ভোগেন। একসময় সন্তান না হলে তার জন্য দায়ী করা হতো নারীকে। কিন্তু এখন জানা গেছে, সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ মিলিয়ন মানুষ বন্ধ্যাত্বের শিকার। এর মধ্যে ৩০-৫০ শতাংশ বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী পুরুষরাই।

সন্তান জন্মাতে হলে যে শুক্রাণুর দরকার হয় তারও গুণমান ভালো হওয়া চাই। শুক্রাণুর গুণগত মানের হ্রাস ও শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়া সারা বিশ্বজুড়েই এখন বিজ্ঞানীরদের চিন্তার বিষয়। শুক্রাণু নিয়ে সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন উপায় আবিষ্কার করছেন প্রতিনিয়ত।

ইতালির ব্রেসশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আলবার্তো ফারলিন বলছেন, শুক্রাণুর মাত্রার অভাব দেখা যায়, মূলত বিপাকীয় পরিবর্তন, কার্ডিওভাসকুলার রিস্ক এবং অস্থির রুগ্নতার কারণে। আসুন দেখে নিই, লো স্পার্ম কাউন্ট কী কী উপায়ে সমাধান করা যায়।

অকারণ দুশ্চিন্তা এবং বন্ধ্যাত্ব বিষয়ে বেশি ভাবনা-চিন্তা মানসিক চাপের সৃষ্টি করে। মানসিক চাপ স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয়। তাই সবসময় দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা দরকার। দেহের ওজনকে আগা-গোড়া নিয়ন্ত্রণে রাখলে ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা পর্যাপ্ত থাকে। এতে স্পার্ম কাউন্ট ঠিক মাত্রায় থাকে। ‘জাকুজি’, ‘সওনা’ ইত্যাদি স্টিম বাথ নেওয়া বাদ দিন। এতে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, ফলে স্পার্মের নিষেক ঘটানোর ক্ষমতা হ্রাস পায়।

পুরুষের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সের পর থেকে স্বাভাবিক ভাবেই স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে। সুতরাং, যাঁরা সন্তানের আশা করছেন, তাঁরা মাথায় রাখুন, কিছুতেই তিরিশের দোরগোড়া পেরোনো যাবে না।

মদ, সিগারেট বা যে কোনও ধরনের নেশার দ্রব্য শুক্রাণুর মাত্রা কমিয়ে দেয়। সুতরাং নেশা করা তালিকা থেকে একদম বাদ দিয়ে ফেলুন। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে স্বাভাবিক ভাবেই শুক্রাণুর মাত্রা কমতে থাকে। ভিটামিন সি, জিঙ্ক, সেলিনিয়াম এই মৌলগুলির অভাবে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে।

সুতরাং, এমন খাদ্যতালিকা তৈরি করুন, যেখানে এই উপাদানগুলি পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকবে। অতিরিক্ত স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ব্যবহার করার ফলে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে। চেষ্টা করুন অন্তত ঘুমোতে যাওয়ার আগে এগুলি ছাড়া বিছানায় যাওয়ার।