http://nirbhiknews.com/wp-content/uploads/2018/05/Health-deases-dr-patient-lifestyle-cancer.jpg

যেসব শারিরিক উপসর্গে সচতন হওয়া জরুরি

প্রাত্যহিক জীবনে আমরা অনেক সময়ই আমাদের শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করি কিন্তু অধিকাংশই তা এড়িয়ে চলি সবাই। যা মোটেও উচিত নয়। আর তা যদি দীর্ঘমেয়াদে চলতে থাকে তবে এক সময় বড় রোগে পরিণত হতে পারে। তাই রোগ বাধাবার আগে সচেতনতা বাড়ালে তা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব অনেকাংশেই। চলুন জেনে নিই কোন কোন উপসর্গ আমাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়।

স্তনের ফোলাভাব ও রঙ পরিবর্তন: স্তন ফুলে যাওয়া বা ভারী লাগা সাধারণ একটি বিষয়। অনেক নারী পিরিয়ডের আগে ও গর্ভকালীন সময় এ বিষয় উপলব্ধি করেন। তবে হঠাৎ করেই যদি স্তনের এমন পরিবর্তন চোখে পড়ে, তাহলে শিগগিরই ব্যক্তিগত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খুব বেশি ফুলে যাওয়া, রঙ পরিবর্তন (লালচে দাগ) প্রদাহজনিত স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের স্তন ক্যান্সার খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে। স্তনের ইনফেকশনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয়। এজন্যই পরিবর্তনগুলো লক্ষ করার পর পরই চিকিৎসককে জানানো উচিত।

সবসময় ক্লান্ত লাগা: সারা দিন কাজ করা ও রাতে কম ঘুমানোর ফলে ক্লান্ত লাগতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা দেখা দিলে ও শরীর অবসন্ন মনে হলে খেয়াল করুন এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা বোধ করছেন কিনা। কারণ দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি ডিপ্রেশন, লিভারে সমস্যা, অ্যানিমিয়া, ক্যান্সার, কিডনিতে সমস্যা, হূদরোগ, থাইরয়েডের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপিনা, ডায়াবেটিস ইত্যাদির কারণেও হতে পারে।

পেট স্ফীত হওয়া: পিরিয়ডের উপসর্গগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। অনেক সময় খাবারের কারণেও দু-একদিন পেট স্ফীত হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু এক সপ্তাহের বেশি যদি এ সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা ওভারিয়ান ক্যান্সারের প্রারম্ভিক লক্ষণও হতে পারে। অন্য উপসর্গগুলো হলো খাওয়ার পর খুব দ্রুত পেট ভরে যাওয়া, খেতে অস্বস্তি, বারবার প্রস্রাবের চাপ অনুভব করা, শক্তির অভাব ইত্যাদি। এসব উপসর্গ বেশির ভাগ সময় খেয়াল করা হয় না বা অনেকে টের পান না। এ কারণেই প্রারম্ভিক অবস্থায় ওভারিয়ান ক্যান্সার নির্ণয় করা যায় না।

অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস: ক্যান্সারসহ অন্যান্য আরো অনেক শারীরিক সমস্যা রয়েছে, যার প্রারম্ভিক লক্ষণ ওজন কমে যাওয়া। কোনো কারণ ছাড়াই যদি ওজন কমতে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। ওজন কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো হলো ক্যান্সার, এইডস, ডায়াবেটিস, হূদরোগ, হাইপোথাইরয়েডিজম ইত্যাদি।

মুখে ও বুকে ঘন লোম গজানো: নারীদের ক্ষেত্রে বুকে ও মুখে অস্বাভাবিক লোম গজানোর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন হরমোন নিঃসরণ। আর এটি পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের লক্ষণ হতে পারে। এর অন্য লক্ষণগুলো হলো ব্রণ, স্থূলতা, অনিয়মিত ঋতুস্রাব, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি।

দীর্ঘমেয়াদি পেটে সমস্যা: মাঝে মাঝে পেটে সমস্যা হতেই পারে। এটি গুরুতর কিছু নয়। দীর্ঘদিন ধরে যদি হয়, তাহলে তা ইরিটেবল বৌল সিনড্রোমের (আইবিএস) লক্ষণ হতে পারে। ইরিটেবল বৌল সিনড্রোমের লক্ষণগুলো হলো পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য। আর আইবিএস পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। প্রতিদিনই যদি এ সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিতে হবে। ডায়েট, রোজকার অভ্যাস ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান করা যায়। তবে প্রয়োজনবোধে চিকিৎসকরা ওষুধও দেন।

মেনোপজের পরও রক্তস্রাব: মেনোপজ শুরু হয়ে যাওয়ার পরও যদি রক্তস্রাব দেখা দেয়, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসককে জানাতে হবে। এটি ক্ষতিকর না-ও হতে পারে, আবার হতে পারে ক্যান্সারের লক্ষণ।

সূত্র: হেলথ লাইন