bkash-news-appsবর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত জনপ্রিয় হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। সবচেয়ে এগিয়ে আছে ডাচ বাংলা ব্যাংকের রকেট ও ব্রাক ব্যাংকের বিকাশ।সফলতায় এগিয়ে বিকাশ। জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে লেনদেন খরচ নিয়ে। বিকাশের এই আর্থিক লেনদেনের জন্য গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে হাজার প্রতি ১৮ টাকা।

অর্থ বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চার্জ অনেক বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন তো দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট ও ডাকাতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন।

এ অবস্থায় ‘বিকাশ’ এর এই বিকাশের যুগে চার্জ কমিয়ে আনা কতটা উচিত বলে অনেকে মনে করছেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আপাতত চার্জ কমানোর কোনও পরিকল্পনা নেই তাদের। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ থাকতে পারে। ২০১০ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করলেও ২০১১ সালে পুরোপুরি মাঠে নামে। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। উত্তরোত্তর সফলতাই পেয়েছে। প্রযুক্তির হালের সংস্করণ অ্যাপকেও ধরে ফেলেছে বিকাশ।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর এক হোটেলে ওই অ্যাপের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করে দেন বিকাশের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে বিকাশের যাত্রা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত পথপাড়ি সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কামাল কাদীর। এরপর অ্যাপ ও তার ব্যবহার নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করেন প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা মীর নওবত আলী।

অ্যাপ চালু উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে চার্জ হিসেবে হাজারে ৩ টাকা ৫০ পয়সা কমিয়ে ১৫ টাকা নিচ্ছে। সঙ্গে পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠানোর ওপর চার্জ তুলে নেয়া হয়েছে।

এই সুবিধা অবশ্য শুধু অ্যাপে পাওয়া যাবে। আর যারা অ্যাপের বাইরে তাদেরকে আগের হারেই টাকা গুণতে হবে। অর্থাৎ হাজারে সাড়ে ১৮ টাকা ও পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে ফি হিসেবে ৫ টাকা গুণতে হবে।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদীর হিসাব দিয়ে বলেন, হাজারে চার্জ হিসেবে যে সাড়ে ১৮ টাকা নেয়া হয়, তার ৭৭ শতাংশ এজেন্টদের পেছনে যায়, ৭ ভাগ যায় মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে। আর বাকি ১৬ ভাগ দিয়েই বিকাশ তার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই ১৬ শতাংশ অর্থ দিয়ে অফিস খরচ, প্রযুক্তি খরচ, কর্মীদের বেতন, বিদ্যুৎ খরচ, মেইটিন্যান্সসহ সব ধরনের খরচ মেটানো হয়।”

এজেন্ট ও দোকানগুলোকে কেন চার্জের ৭৭ শতাংশ দেয়া হয়- সে সম্পর্কে তিনি বলেন, যেখান থেকে ক্যাশ-আউট বা ক্যাশ-ইন হচ্ছে, ওই দোকানদারদের তো ব্যবসা করার আরও অনেক সুযোগ আছে।

‘তারা চাইলে চানাচুর বিক্রি করতে পারে, মুড়ি বিক্রি করতে পারে। আবার সাবান, কোক বিক্রি করতে পারে। রিটার্ন যদি পর্যাপ্ত না হয়, তবে তিনি তো বিকাশের ব্যবসা করবেন না।’
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিকাশের খরচ কমানোর যদি সুযোগ থাকে, তবে অবশ্যই সেটি করা হবে।

ব্যাংকের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে টাকা পাঠানোর সুযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ২০ টাকা গুণতে হচ্ছে গ্রাহককে। এই হার বর্তমানের নির্ধারিত হারের চেয়েও দেড় টাকা বেশি। এই বাড়তি অর্থ গ্রাহককে এজেন্টের কাছে গুণতে হয়।

অভিযোগ আছে, ওই হিসেবে বিকাশ গ্রাহকের পকেট থেকে একটি বড় অংকের টাকা কাটার সুযোগ করে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে চার্জের ব্যাপারে কোনো সমন্বয় (যেমন চার্জ ভাঙতি না রেখে পূর্ণ ১৫ টাকা বা ১৮ টাকা) করা হবে কি না- এমন প্রশ্নে প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকিং হিসাব আর বিকাশের সেবা এক নয়। আসলে আমাদের চার্জ হাজারে সাড়ে ১৮ টাকার নিচে করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি নিয়ে ভাবা হবে।