Nirbhiknewsঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর। কাল বাদ জুমা লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। তাঁর পারিবারিক বন্ধু ও নাগরিক টেলিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডা. আবদূর নূর তুষার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘আমি গভীর দুঃখের সাথে সকলকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানাচ্ছি যে, ঢাকা নর্থ সিটি করপোরেশনের মেয়র, নন্দিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, সফল উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী, মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান জনাব আনিসুল হক, লন্ডন সময় ৪টা ২৩ মিনিটে, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোক গমন করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন) তার পাশে সেই সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদ্বয়। তার মরদেহ শনিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানযোগে ঢাকায় আনা হবে। ঢাকাসহ সারা দেশে তার সকল শুভান্যুধায়ী, গুণগ্রাহী যারা তাঁর জন্য দোয়া করেছেন, সকল গণমাধ্যমকর্মী ও তার স্বজনদের আমরা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা দোয়া করবেন যাতে তিনি জান্নাতবাসী হন।’

মেয়রের ব্যক্তিগত সহকারী মিজানুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় বিকাল ৪ টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিট) তার মৃত্যু হয়।
লন্ডনের এই হাসপাতালেই মৃত্যুবরণ করেন মেয়র আনিসুল হকএর আগে, গত মঙ্গলবার অসুস্থ অবস্থায় হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

প্রসঙ্গত, মেয়র আনিসুল হক সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিসে (মস্তিষ্কের রক্তনালির এক ধরনের প্রদাহ) আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত মেডিসিনের প্রভাবে তার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণেই তিনি ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন। কিছুটা শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই গত ২৯ জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে লন্ডন যান আনিসুল হক। দেশে চিকিৎসকরা তার সমস্যাটি শনাক্ত করতে পারেননি। পরে সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
নব্বুইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনার মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা পান আনিসুল হক। এরপর তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। শিখরস্পর্শী ব্যবসায়ী হিসেবে সুনাম অর্জনের পর এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। মেয়র হিসেবে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তার মোড় থেকে ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে রাস্তা নির্মাণ, গাবতলীতে ট্রাক স্ট্যান্ড সরিয়ে রাস্তা সংস্কার, হলি আর্টিজানের ঘটনার পর কূটনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গুলশান-বারিধারার নিরাপত্তা জোরদার, গুলশান-বনানী এলাকা থেকে পুরনো বাস সরিয়ে ‘ঢাকা চাকা’ নামের নতুন এসি বাস সার্ভিস চালু, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, ‘সবুজ ঢাকা’ নামের বিশেষ সবুজায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে নাগরিকমহলে বিশেষ প্রশংসিত হন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সমস্যায় দিনে-রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও নাগরিকবাসীর আস্থাভাজন হয়েছেন তিনি।

আনিসুল হক ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নানাবাড়ি ফেনী জেলার সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালি জেলার কবিরহাট উপজেলায়। বর্তমান সেনাপ্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক মেয়র আনিসুল হকের ছোট ভাই। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক, তাদের তিন সন্তান। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। তিনি বিজিএমই-এর সভাপতি ছিলেন, পরে এফবিসিসিআইর সভাপতি হন। পরবর্তীতে সার্ক চেম্বারের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন প্রয়াত এই মেয়র।