Nirbhiknewsব্রিটেনের চরম ডানপন্থী একটি দলের তিনটি উস্কানিমূলক মুসলিম বিদ্বেষী ভিডিও নতুন করে টুইট (রি-টুইট) করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটেন ফার্স্ট নামে দলটির উপনেতা জেইডা ফ্রানসেনের প্রথম টুইট বার্তায় এক ভিডিওতে দাবি করা হয়- একজন মুসলিম অভিবাসী ক্র্যাচ নিয়ে চলা এক প্রতিবন্ধীর ওপর হামলা করেছে।

এরপর তিনি আরো দুই ব্যক্তির একই ধরনের দু’টি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন তারাও মুসলমান। এর একটিতে দেখানো হয় মুসলিমরা একটি খ্রিস্টান মূর্তি ভাঙছে আর অন্যটিতে তারা এক বালককে হত্যা করছে। এই তিনটি ভিডিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজের টুইটারে অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করেন।

ব্রিটিশ ফার্স্ট দলটি গঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। উগ্র ডানপন্থী ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির (বিএনপি) সাবেক সদস্যরা এটি গঠন করে। ‘যুক্তরাজ্যের ইসলামীকরণ’ উল্লেখ করে দলটি বিতর্কিত বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফার্স্ট নেতা ফ্রানসেনকে টুইটে অনুসরণ করে ৫২ হাজার ব্যবহারকারী। মূল ভিডিওটি প্রথমে শেয়ার করেন আমেরিকার রক্ষণশীল একজন ভাষ্যকার অ্যান কুলটার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই টুইট শেয়ার করার পর ফ্রানসেন খুবই উত্সাহের সঙ্গে তার উত্তরে লেখেন ‘এই ভিডিওগুলো ট্রাম্প নিজে নতুন করে টুইট করেছেন। তার ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় চার কোটি ৪০ লক্ষ। ঈশ্বর ট্রাম্পের মঙ্গল করুন! আমেরিকার মঙ্গল করুন!’

সম্প্রতি বেলফাস্টে দেয়া এক ভাষণে হুমকি দেয়া, অপমানজনক ভাষা ব্যবহার এবং আচরণের জন্য ফ্রানসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। আগামী ১৪ই ডিসেম্বর বেলফাস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে। তার উস্কানিমূলক ভিডিওগুলো ট্রাম্প রি-টুইট করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া চলছে। টিভি উপস্থাপক ও সাংবাদিক পিয়ের্স মরগ্যান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘বন্ধু’ বলে অভিহিত করে থাকেন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘আপনি এটা কি কাণ্ড করছেন! এই পাগলামো বন্ধ করুন এবং টুইটগুলো সরিয়ে ফেলুন’। একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আরো অনেকে। বিবিসি।