Nirbhiknewsজার্মান নাগরিক পেটার স্টয়েটনার ও আরো সাতজন মানবাধিকার কর্মীকে বেশ কয়েক মাস তুরস্কে কারাবন্দি রাখার পর আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে৷ তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়৷

বৃহস্পতিবার স্টয়েটনার, তুরস্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান ইদিল এসার ও আরো ছয় জন যখন ইস্তানবুলের কারাগার থেকে বেরিয়ে পরিবারবর্গের সঙ্গে মিলিত হন, তখন সকলের চোখেই জল৷ তাঁদের সমর্থকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন৷

স্টয়েটনার গত ৫ই জুলাই থেকে কারারুদ্ধ ছিলেন৷ মুক্তি পাবার পর তিনি বলেন, ‘‘আমরা সকলেই বিপুল স্বস্তি অনুভব করছি৷ যা ঘটেছে, সে বিষয়ে আমরা আন্তরিকভাবে খুশি৷ আমার নিজের তরফ থেকে আমি বলতে পারি, আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এবং আমরা সত্যিই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ, যাঁরা আমাদের আইনগতভাবে, কূটনৈতিকভাবে ও সংহতির মাধ্যমে সাহায্য করেছেন৷”

বুধবার সন্ধ্যায় একটি তুর্কি আদালত স্টয়েটনার ও আরো ১১ জন মানবাধিকার আন্দোলনকারীকে মুক্তি দেবার নির্দেশ দেন৷ ইতিপূর্বে সরকারি কৌঁসুলি অভিযুক্তদের বিচার প্রক্রিয়ার আগে আটক রাখার অন্ত ঘটানোর আবেদন করেন৷ ফলে এসার মুক্তি পেলেও, তুরস্কে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যুগ্ম পরিচালক তানের কিলিচ-কে এখনও কারাবদ্ধ রাখা হয়েছে৷

এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফ থেকে মানবাধিকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলার সমালোচনা করা হয়৷ জার্মানি তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করে৷

অভিযুক্তদের দশজনকে গত ৫ জুলাই তারিখে ইস্তানবুলের কাছে বুইয়ুকাদা দ্বীপে একটি মানবাধিকার ওয়ার্কশপ চলাকালীন গ্রেপ্তার করা হয়৷ তুরস্কে অ্যামনেস্টির সভাপতি কিলিচকে এর বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ও পরে তাঁর মামলা বুইয়ুকাদার মামলার সঙ্গে যোগ করা হয়৷

বিচার শুরু হওয়ার আগে অ্যামনেস্টি একটি বিবৃতিতে বলে,‘‘তুরস্ক এই মানুষদের কারারুদ্ধ করেছে, ঠিক যেমন তুরস্ক শত শত সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করেছিল, এই প্রচারণার দোহাই দিয়ে যে, মানবাধিকার রক্ষাকারীরা বিপজ্জনক ও তাঁদের রোখা প্রয়োজন৷ এটা হাস্যকর ও একেবারেই সত্যি নয়৷” ‘‘এই সব মানুষেরা তুরস্কে শান্তিপূর্ণভাবে মানবাধিকার সুরক্ষার চেষ্টা করছিলেন৷ তাঁরা কারাগারে যত দিন কাটাচ্ছেন, সেই সময়ে তারা যে সব মানুষের জন্য সোচ্চার ছিলেন, তারা সরকারের ব্যাপক নিপীড়ন অভিযানের মুখে আরো অসহায় হয়ে পড়ছেন৷”