Nirbhiknewsএকাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ চূড়ান্ত করেছে তদন্ত সংস্থা। এর মধ্যে খুলনার শেখ আব্দুর রহিমও রয়েছেন।

মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে অবস্থিত তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জনান সংস্থার প্রধান আব্দুল হান্নান খান। অভিযুক্ত ১১ আসামির মধ্যে ৯ জন গ্রেফতার আছেন। বাকি দুই জন পলাতক বলে জানান তিনি।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যাসহ ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়া হবে। এর আগে ২২ নভেম্বর গাইবান্ধার সাবেক সংসদ সদস্য, জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজসহ ছয় আসামিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে মঙ্গলবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায়ের দিন ধার্য করেন। ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ২৮টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্কের শুনানি করেন সায়েদুল হক সুমন ও সৈয়দ হায়দার আলী। আসামিদের মধ্যে পলাতক লতিফের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার রেজাউল এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

আজিজ ছাড়া বাকি আসামিরা হলো, রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১), আব্দুল লতিফ (৬১), আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী (৫৯), নাজমুল হুদা (৬০) ও আব্দুর রহিম মিঞা (৬২)। আসামিদের মধ্যে লতিফ ছাড়া সবাই পলাতক।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত চার দলীয় জোটের অধীনে গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জ-১ আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। বাকিদের মধ্যে রুহুল আমিন ওরফে মঞ্জু (৬১) জামায়াতের সুন্দরগঞ্জ থানা শাখার সদস্য, আব্দুল লতিফ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের নেতা, আবু মুসলিম মোহাম্মদ আলী মুক্তিযুদ্ধের আগে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতা ছিলেন। বাকিরাও বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

গত ২৩ অক্টোবর উভয়পক্ষের দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই ছয় আসামির বিচার শুরু করে আদালত।

পূর্ব পাকিস্তানের সেনাদের দোসর আলবদর, আলশামস, রাজাকরদের কাছে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র নিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের গচ্ছিত অর্থ সম্পদ লুটপাট, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিসহ একাধিক অভিযোগ করা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।