nibhiknewsনিজেই নিজের সঙ্গে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলার বিষয়টিকে ধরা হয় পাগলামির লক্ষণ হিসেবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সমাজের এ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। এতে বলা হয়েছে, নিজেই নিজের সঙ্গে জোরে কথা বলার বিষয়টি পাগলামি নয়, বরং উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমাত্রার লক্ষণ। উপরন্তু নিজের সঙ্গে নিজের উচ্চৈঃস্বরে আলাপচারিতা মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ানোয়ও ভূমিকা রাখে। খবর ডেইলি মিরর।

উত্তর ওয়েলশের এক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাঙ্গোর ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত গবেষণায় বলা হয়, একা একা উচ্চৈঃস্বরে কথা বললে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ে। একই সঙ্গে এতে প্রকাশ পায় উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমত্তার। গবেষণায় উঠে আসে, কোনো কিছুতে মনঃসংযোগের জন্য যারা কাজটি করার সময় নিজে নিজে কথা বলেন, তারা নিঃশব্দে কাজ চালিয়ে যাওয়াদের তুলনায় আরো বেশি মনোযোগী হয়ে উঠতে পারেন।

২৮ জন ব্যক্তির ওপর পর্যবেক্ষণ চালিয়ে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ব্যাঙ্গোর ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানীরা। পর্যবেক্ষণের জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে তুলে দেয়া হয় লিখিত নির্দেশনা। স্বেচ্ছাসেবীদের কাজে মনোযোগ ও পারফরম্যান্স পরিমাপের আগে তাদের এসব নির্দেশনা নিজ নিজ খেয়াল-খুশিমতো উচ্চৈঃস্বরে বা মনে মনে পড়তে বলা হয়।
দেখা গেছে, যারা উচ্চৈঃস্বরে নির্দেশনা পড়েছেন, তাদের মস্তিষ্কে বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই প্রোথিত হয়েছে। এক্ষেত্রে তাদের পারফরম্যান্স ছিল, যারা মনে মনে নির্দেশনা পড়েছেন, তাদের চেয়েও ভালো।

এ বিষয়ে গবেষকদের অন্যতম ব্যাঙ্গোর ইউনিভার্সিটির নিউরোসাইকোলজি ও কগনিটিভ সাইকোলজির জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. প্যালোমা মারি-বেফা বলেন, ‘গবেষণার ফল থেকে উঠে আসে যে, কোনো চ্যালেঞ্জিং কাজ করার সময় যদি আমরা নিজের সঙ্গে জোরে জোরে কথা বলি, তাহলে কাজের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটে উল্লেখযোগ্য হারে। মস্তিষ্ক যখন বিক্ষিপ্ত থাকে না, তখন এভাবে নিজের সঙ্গে কথা বলাটা আসলে উচ্চমাত্রার বৌদ্ধিক কার্যক্রমের পরিচায়ক। পাগলা বিজ্ঞানীদের আমরা সাধারণত নিজে নিজে কথা বলতে বা নিজের জগতেই ডুবে থাকতে দেখি। আসলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড হলো, এসব জিনিয়াসের নিজের মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়াসেরই প্রতিফলন’।

অতএব মারিয়া শারাপোভা বা সেরেনা উইলিয়ামসের মতো টেনিস প্রতিভারা কঠিন ম্যাচের সময় নিজেই নিজের সঙ্গে কেন কথা চালিয়ে যান, এ গবেষণা যে তার যথাযোগ্য সদুত্তর দিচ্ছে; তাতে কোনো সন্দেহ নেই।