kcc_election-khulna-south banglaআগামীকাল মঙ্গলবার কেসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রথম দলীয় প্রতীকে কেসিসি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আজ সোমবার দুপুর থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে খুলনা মহানগরীতে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে টহল দেওয়া শুরু করেছেন।

তারপরও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বড় দুই দল। এই শঙ্কা নিয়েই গতকাল রবিবার প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

গত ২৪ এপ্রিল মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। এই নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এতে নির্বাচনের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর ওপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা গণসংযোগে এসে তারাও বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। তবে দুই মেয়র প্রার্থী ও তাদের দলের শীর্ষ নেতাদের বাগযুদ্ধের মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে।

এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কেসিসির শতভাগ ভোট কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ।তিনি নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে এখনই সকল ভোট কেন্দ্রে সেনাবাহিনী এবং প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করুন। তিনি বলেন, মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজেও শঙ্কামুক্ত নন। দলের দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের ভয় দেখানো হচ্ছে। মহিলা পুলিশ বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে নেতা-কর্মীদের পরিবারের নারী সদস্যদের ভয়ভীতি  দেখাচ্ছে।

অপর দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা শুরু থেকেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জু নির্বাচনে বোমাবাজি হবে, কারচুপি হবে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঢাকা থেকে বিএনপির একজন নেতা খুলনায় এসে কালো টাকা ছড়াচ্ছেন। মঞ্জু নির্বাচনে জিততে খুলনা মহানগরীর আশপাশ এলাকায় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের জড়ো করেছেন। উনি নির্বাচনের দিন গোলযোগ ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারেন বলে আমাদের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জামাত-শিবিবের ক্যাডার ও বিএনপির সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দিনের শেষ  গণসংযোগ করেছন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সকাল ৯টায় দৌলতপুর পাবলা দফাদারপাড়া চানাচুরপট্টিতে।আর বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু শেষ দিনের প্রচারণা চালিয়েছেন নগরীর প্রবেশদ্বার খানজাহান আলী সেতু এলাকায়।

এছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান, সিপিবির মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজাম্মিল হকও গতকাল দিনভর গণসংযোগ করেছেন।