M_Hafiz_pakistan_PCB_ICC_cricketআবারো আন্তর্জাতিক  ক্রিকেটে ফিরছেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ।দুই সপ্তাহ হলো আইসিসির অনুমতি পেয়েছেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার। তিন তিনবার অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের পর এবার তিনি অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের পরিক্ষা  পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।তাঁর মতে এই পরিক্ষা পদ্ধতিটা সন্দেহজনক। এখানেও সুসম্পর্কের হিসেব নিকেশ করা হয়।

গত বছরের অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে হাফিজের বিপক্ষে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ তোলেন আম্পায়ারেরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য নিষিদ্ধ হন তিনি। ইংল্যান্ডের লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাকশন শুধরে ফেরার পর ‘বিবিসি উর্দু’কে হাফিজ বলেন, ‘এ ব্যাপারে অনেক কিছুর প্রভাব রয়েছে (যাঁদের অ্যাকশন অবৈধ ধরা হয়)। কিছু শক্তিশালী বোর্ডের ভূমিকা রয়েছে, কেউ তাঁদের মুখোমুখি দাঁড়াতে চায় না।’

৩৭ বছর বয়সী হাফিজ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অফ স্পিনটাও ভালোই পারেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘বৈধ বোলিং অ্যাকশনের নিয়মটা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে দুনিয়ার সব বোলারের অ্যাকশন পরীক্ষা করা হয় না কেন? এ আর কী এমন কঠিন কাজ?’ কিন্তু তা না হওয়ার পেছনের কারণটা হাফিজের চোখে এমন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অনেকের সঙ্গে অনেকের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, কেউ তা নষ্ট করতে চায় না।’

তৃতীয়বারের মতো অবৈধ অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হওয়ার পর পরীক্ষাগারে গিয়ে হাফিজ দেখেন, বোলিংয়ের সময় তাঁর হাত ১৫ ডিগ্রির সামান্য ওপরে ভাঁজ হয়। অর্থাৎ তেমন গুরুতর কিছু না। কিন্তু খালি চোখে মাঠের আম্পায়ারেরা তা বুঝলেন কীভাবে? ঠিক এ ব্যাপারটা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন হাফিজ, ‘আম্পায়ারেরা প্রশ্ন তোলার পর পরীক্ষায় দেখেছি আমার হাত ১৬, ১৭ সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি ভাঁজ হয়। অবাক লেগেছে খালি চোখে এই সামান্য পার্থক্যটুকু তাঁরা বুঝলেন কীভাবে, যখন অনেকের অ্যাকশনে কনুই ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি ভাঁজ হলেও তাঁরা ধরতে পারেন না?’

হাফিজ তাই সাফ বলে দিয়েছেন, ‘অবৈধ অ্যাকশন ধরার প্রক্রিয়া নিয়ে আমার সন্দেহ হয়। যাঁদের ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ভাঁজ হচ্ছে, সেটা কেউ দেখছে না কিন্তু আমার ১৬ ডিগ্রি তাঁরা খালি চোখেই ধরে ফেললেন—এ ব্যাপারটা সন্দেহজনক।’

হাফিজের এ প্রশ্নের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হয়, তবে কি এখনো আইসিসি তার নিজস্ব স্বাধীনতায় সবকিছুতে পরিপক্ক হয় নি! প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যায়।