Nirbhiknewsবৈদেশিক সহায়তানির্ভর বড় ২৮ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত গতি নেই। এসব প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটির পূর্ণাঙ্গ ব্যয় সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্প অনুমোদনের পরেও সময়মতো চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়ায় এর একটি বড় কারণ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তির সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও চীন এখনো চুক্তি স্বাক্ষর করেনি। ডিসেম্বর নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে এ প্রকল্পে বরাদ্দের বড় অংশ খরচ করা সম্ভব নয়। ৫টি বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ টিভি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পটি গত মার্চে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ প্রকল্পেও চুক্তি স্বাক্ষর করেনি চীন।

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ব্রডব্যান্ড ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্পে ‘বিডার’দের মধ্যে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়নি। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।

চলতি অর্থবছর (২০১৭-১৮) বৈদেশিক সহায়াতনির্ভর বৃহৎ ২৮ প্রকল্প সময়মতো এগোচ্ছে না এরকম নানা কারণে। ফলে উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে অর্থায়ন চুক্তি না হলে ভবিষ্যতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্প সাহায্য বাবদ অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইআরডি। নভেম্বরের শুরুতে চলতি অর্থবছর এডিপিতে ২শ কোটি টাকা বা তার বেশি বরাদ্দ রয়েছে এমন ৬৩টি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করেছে ইআরডি। সভায় জানানো হয়েছে, এই ৬৩ প্রকল্পে বাজেটে বৈদেশিক সহায়তা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৫ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর এডিপিতে প্রকল্প সাহায্য বাবদ সবমিলিয়ে ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে যা মোট এডিপি বরাদ্দের ৩৭ শতাংশ। এজন্য বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পের অগ্রগতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইআরডির সচিবের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ইআরডির কর্মকর্তা জানান, ৬৩ প্রকল্পের মধ্যে ৩৫টি প্রকল্পের অগ্রগতি ও ব্যয় সন্তোষজনক বলা যায়। অন্যদিকে ২৮ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। এর মধ্যে বিদ্যুতের ৯টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৫টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ৪টি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৩টি ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বাজেটে সরকারি ব্যয়ের অংশ এবং বৈদেশিক সহায়তার অংশ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বেশ কিছু প্রকল্পে এখনও চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। ফলে বাজেটের বৈদেশিক সহায়তার বড় অংশ ব্যয় করা সম্ভব হবে না। এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের বড় অংশ কাটছাঁট করতে হবে, কিছু ক্ষেত্রে সরকারের তহবিলের অংশ বাড়াতে হবে। এজন্য অনুমোদিত প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর না হলে ভবিষ্যতে এডিপিতে প্রকল্প সাহায্যবাবদ বরাদ্দ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানাগেছে।

সভা সূত্রে জানা যায়, সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এন্ড একসেস ইনহান্স প্রকল্পে বিশ্বব্যাংককে বাড়তি অর্থ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা সাড়া দেয় নি। ফলে চলতি অর্থবছর বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ অর্থ ব্যবহার সম্ভব হবে না। তাছাড়া কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পেও বরাদ্দ ব্যবহারের সম্ভাবনা কম বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অধীনে আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহান্সিং টু সার্ভিসেস (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পূর্ণ খরচ করা সম্ভব হবে না। হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট ৩য় সংশোধিত প্রকল্পের প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দ ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে না এবছর, চিটাগাং ওয়াটার সাপ্লাই ইম্প্রুভমেন্ট এন্ড স্যানিটেশন প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তার জন্য ২০০ কোটি টাকা বাজেটে বরাদ্দ থাকলেও চলতি অর্থবছর ১৫০ কোটি টাকা ব্যবহার হতে পারে।

দাশোরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের এলাকায় হাই ভোল্টেজ ইলেট্রিক লাইন না সরানোর ফলে এ প্রকল্পের অধিকাংশ বরাদ্দ ব্যয় হবে না বলে জানানো হয়েছে। কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই ফেস-২ প্রকল্পে ৬০০ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য বরাদ্দের ২০০ কোটি টাকা চলতি অর্থবছর ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট (বিআরটিএ গাজীপুর এয়ারপোর্ট) প্রকল্পে দুটি প্যাকেজের প্রকিউরমেন্ট কন্ট্রাক্ট করা হয় নি। ফলে এ প্রকল্পেও সম্পূর্ণ ব্যয় হচ্ছে না এবছর। বিদ্যুত্ বিভাগের অধীনে রি-পাওয়ারিং ঘোড়াশাল ৪র্থ ইউনিট প্রকল্প, ৪০০/২৩০/১৩২ কেভি গ্রিড নেটওয়ার্কের ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড আধুনিকায়ন প্রকল্পসহ বিদ্যুত্ বিভাগের ৯টি প্রকল্পে ধীর গতি রয়েছে। এধরনের প্রকল্পগুলোকে নিবিড় পরিবীক্ষণ করাতে বলা হয়েছে।

চলতি অর্থবছর (২০১৭-১৮) বাজেটে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে যোগান দেওয়া হবে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়াতা ব্যবহার ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা এবং বিভিন্ন সংস্থা ও কর্পোরেশনের নিজস্ব তহবিল হতে ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।