prime_misiterজঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনী যেভাবে লড়ছে, তাতে এ দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) সদর দপ্তরে বাহিনীর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর বাসস।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও বাংলাদেশ সফলভাবে তা মোকাবেলা করছে।
তিনি বলেন, সবাই মিলেই কিন্তু এ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে অত্যন্ত সফলতা অর্জন করেছি, যা বিশ্বব্যাপী একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ ধারাটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে কোনোমতেই বাংলার মাটিতে কোনো রকম জঙ্গিবাদের স্থান না হয়।

গত বছর জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে বড় ধরনের জঙ্গি হামলা ঘটে, যেখানে ১৭ বিদেশীসহ ২২ জন নিহত হন। এর পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে জঙ্গি দমনে, বিভিন্ন অভিযানে সেনাবাহিনীও অংশ নিচ্ছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রণের মতো মাদক নির্মূলেও সফলতা আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কাজ করে যাব, যাতে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ পেয়েছি, সে দেশ বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। পিজিআরের দায়িত্ব ও কাজ নিয়েও কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার প্রতিষ্ঠিত পিজিআর কালের আবর্তে আজ স্বমহিমায় উজ্জ্বল ও ঐতিহ্যে ভাস্বর। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা দায়িত্ব ও রাষ্ট্রাচার অনুষ্ঠানে আপনাদের ভূমিকা আজ সর্বজন স্বীকৃত ও প্রশংসিত। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, তুফান সবকিছু উপেক্ষা করেও আপনারা দায়িত্ব পালনে অটল থাকেন। আপনাদের এ একনিষ্ঠ কর্তব্য পালন আমাকে মুগ্ধ করে, গর্বিত করে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পিজিআর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি সরকারপ্রধানের নিরাপত্তার দায়িত্ব এ রেজিমেন্টের ওপর বর্তায়। এ রেজিমেন্টের যেসব সদস্য দায়িত্ব পালনের সময় আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পিজিআর তার চিরাচরিত সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যতে অধিক সফলতা অর্জনে সক্ষম হোক। আত্মবিশ্বাসী পদভারে তারা আরো সামনে এগিয়ে যাক।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পিজিআর সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো, ভাতা বাড়ানো, আবাসন সমস্যার সমাধানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
বাহিনীটির সদস্যদের দক্ষতা ও উত্কর্ষ আরো বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করে তুলতে সরকারের পদক্ষেপের কথাও বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যেন কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে না থাকে; সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা সশস্ত্র বাহিনীকে ঢেলে সাজাচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় অনেকে আমাকে প্রশ্ন করেছেন, এটা কেন দরকার, ওটা কেন দরকার, এটা হবে কেন, ওটা আনতে হবে কেন?
তিনি বলেন, বিশ্বের বড় বড় দেশ, উন্নত দেশ, তাদের সবই আছে। কারণ তাদের সম্পদ আছে। আমাদের হয়তো সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও আমরা একটা স্বাধীন দেশ। স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে যা যা থাকা দরকার, অল্প পরিমাণেও সেটা থাকতে হবে। এ সময় শেখ হাসিনা জনকল্যাণে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও বলেন। তিনি বলেন, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত উন্নয়ন করে যাচ্ছি, যার সুফল মানুষ পাচ্ছে। খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমানো, গড় আয়ু বাড়ানোসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরেন তিনি। বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়ানো, বিনামূল্যে বই বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, গৃহহারাদের ঘর দেয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পিজিআরের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর হারুনও বক্তব্য রাখেন। আরো উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া মো. জয়নুল আবেদীন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আখতার হোসেন ভূইয়া ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।