prime miniserপ্রবল বর্ষণে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পানি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে। গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় মজুরি ও উত্পাদনশীলতা কমিশন ২০১৫’-এর প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, শ্রম সচিব মিখাইল শিপার ও কমিশনের চেয়ারম্যান এনআই খান। খবর বাসস।

সাম্প্রতিক বন্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে। কিন্তু সেই দুর্যোগ মোকাবেলারও আমাদের সব ব্যবস্থা আছে। আমরা এমনভাবে এসব ব্যবস্থাপনা করে দিয়েছি যে, আমাদের কার কী করণীয় সবাই জানেন এবং তাত্ক্ষণিকভাবে সবাই কিন্তু সেই ব্যবস্থাটা নেন। সেজন্যই কিন্তু আমরা এ দুর্যোগগুলো মোকাবেলা করতে পারি। আমরা কিন্তু একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।
তিস্তার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারায়ও পানি বাড়ছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকলে এ মাসে বন্যার অবনতি ঘটতে পারে বলে আভাস মিলেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এরই মধ্যে অকালবন্যা হয়ে গেছে হাওড় এলাকায়। এখন সিলেট অঞ্চলে বন্যা চলছে। ওই পানি যখন নেমে আসবে, আমাদের মূল তিনটা নদী দিয়েই সব পানি নামে, তখন কিন্তু ধীরে ধীরে আগস্টের শেষের দিকে দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হবে। এসব দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুতি আছে। যেখানে বন্যা হচ্ছে, সেখানে লোক পাঠাচ্ছি। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে বলেন, আমাদের তো একটা হিসাব আছে। এ পানি নামতে নামতে কোন পর্যন্ত যাবে, কোন এলাকা প্লাবিত হবে, সেই এলাকায় আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া, সেগুলো আমরা নিয়ে যাচ্ছি। ১৯৮৮ সালের বন্যায় অনেক মানুষ না খেয়ে মারা গেলেও ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম বন্যা ‘খুব ভালোভাবে’ মোকাবেলার কথাও বলেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্পাদনশীলতা বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে বলেন। তিনি বলেন, সবসময় মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই আমাদের রাজনীতি। সেটাই আমরা চাই। কিন্তু সেই সঙ্গে যারা কাজ করবে, যাদের দায়িত্ব উত্পাদন বাড়ানোর, তাদের তো সেই কাজটা মনোযোগ দিয়ে করতে হবে এবং তার মানটাও উন্নত করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ও প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, সাড়ে আট বছর আগে তার সরকার বিশ্বমন্দার মধ্যে দায়িত্ব নিলেও সুষ্ঠু নীতিমালা ও সঠিক পদক্ষেপের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে। এটা কিন্তু সহজ কথা নয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কারণেই ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে এবং উন্নয়নের সুফল জনগণ পাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার শ্রমিক কর্মরত। তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করেছে কমিশন। কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে যতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব, ততটুকু আমরা বাস্তবায়ন করব।