rabindronath_660_fullমধ্যপন্থী এন মার্চে দলের প্রার্থী ইমানুয়েল মাখোঁকেই ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিয়েছেন দেশটির জনগণ। প্রাথমিক এক হিসাব অনুযায়ী, চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্বাচনে ইমানুয়েল মাখোঁর পক্ষে রায় দিয়েছেন গতকালের ভোটদাতাদের মধ্যে ৬৫ দশমিক ৫ থেকে ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রার্থী মারিন লু পেন পেয়েছেন ৩৩ দশমিক ৯ থেকে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট। খবর এএফপি ও সিএনএন।

এ জয়ের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলেন ইমানুয়েল মাখোঁ। সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার মাখোঁর আকস্মিক রাজনৈতিক উত্থানের স্মারক হয়ে থাকল ফ্রান্সের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অন্যতম হয়ে উঠলেন তিনি। যদিও তিন বছর আগেও সেভাবে পরিচিত ছিলেন না তিনি।

নির্বাচন চলাকালেই ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য দেশ পরিচালনায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবারের নির্বাচনই। কর্মহীনতা, শ্লথ অর্থনীতি ও নিরাপত্তা শঙ্কায় জর্জরিত রয়েছে দেশটি। এছাড়া সম্প্রতি দেশটির আরেকটি বড় ধরনের বিতর্কিত ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে অভিবাসন সমস্যা। সর্বশেষ ইমানুয়েল মাখোঁর ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনাটি নির্বাচনী বিতর্কের আগুন আরো উসকে দেয়।
ফ্রান্সের এবারের নির্বাচনে প্রচুর ভোটার ভোট দিতে যাননি। দেশটির মোট ভোটারের ২৫ শতাংশেরও বেশি ভোটদান থেকে বিরত ছিলেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারত। অন্যদিকে বেশকিছু ভোটারের উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, মাখোঁকে সেভাবে সমর্থন না করলেও ব্রেক্সিট ও মার্কিন নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে ডানপন্থী পপুলিস্ট রাজনীতির উত্থান ঠেকাতে এবার অনেকেই ভোট দিতে গেছেন।
দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক পর্যায়ের ভোটযুদ্ধ বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছিল। ওই সময় শীর্ষ দুই প্রার্থী ইমানুয়েল মাখোঁ ও মারিন লু পেন ভোট পেয়েছিলেন যথাক্রমে ২৪ ও ২১ শতাংশ। অন্যদিকে এর চেয়ে কম ভোট পেয়ে লড়াইয়ের ময়দান থেকে ছিটকে পড়েন দেশটির প্রচলিত ধারার মোটামুটি শীর্ষ সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাই।

দুই পর্বের নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে বিষয়টিকে আরো নাটকীয় করে তোলে ই-মেইল কেলেঙ্কারি। প্রার্থী ইমানুয়েল মাখোঁর ই-মেইল অ্যাকাউন্টকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ও সংগঠিত সাইবার হামলা করা হয়েছে বলে সম্প্রতি তার প্রচারশিবির থেকে অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তীতে শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারাভিযান শেষ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে পেস্টবিন নামে একটি টেক্সট শেয়ারিং সাইটে মাখোঁর হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে পাওয়া সাড়ে ১৪ গিগাবাইটের সমপরিমাণ তথ্য ফাঁস করে দেয় হ্যাকাররা। এর মধ্যে তার ই-মেইল ছাড়াও ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য রয়েছে বলে জানা যায়।

মাখোঁর রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রয়াস থেকে এসব তথ্যের মধ্যে আসল নথির সঙ্গে সঙ্গে জাল নথিও ঢুকিয়ে দিয়েছে হ্যাকাররা। তবে এ হ্যাকিংয়ের পেছনে কাদের হাত রয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী মারিন লু পেনও কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পেছনে সমর্থন আদায়ের জন্য বেশ পরিশ্রম করে গেছেন। অন্যদিকে নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাখ্যাত রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সংস্রব বা সাযুজ্য না থাকার বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের বারবার বোঝানোর প্রয়াস চালিয়ে গেছেন ইমানুয়েল মাখোঁ।
নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ৪৮ বছর বয়সী লু পেনের প্রতিশ্রুতি ছিল, নির্বাচনে জিতলে ফ্রান্সকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে বের করে আনার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করে তুলবেন তিনি। অন্যদিকে ইইউসহ অন্যান্য জোটে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্তি বজায় রাখার পক্ষ নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে গিয়েছিলেন ইমানুয়েল মাখোঁ।