Nirbhiknewsপ্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বলে জানিয়েছেন প্রাথমিকের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রাথমিকের শিক্ষক প্রতিনিধি দলের সদস্য তপন কুমার মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার বিকালে হেয়ার রোডে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসভবনে তার সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের নেতারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এছাড়া শহীদ মিনারে গিয়ে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের অনশন ভাঙাবেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক জোটের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবির বিয়ষটি সরকারের অর্থমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করবেন বলে শিক্ষক নেতাদের আশ্বাস্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী। পরে কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।

আমিনুল হক ভূইয়া আরো বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে আমাদের সমস্যা সমাধান করবেন।’

এর আগে সোমবার সকালে তৃতীয় দিনের অনশনে অর্ধশত শিক্ষক অসুস্থ হলে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বেতন নির্ধারণের এক দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো গড়ায়। অনশনে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক)হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কয়েক হাজার শিক্ষক এ অনশন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না। এমনকি আগামী ১ জানুয়ারি বিনামূল্যের নতুন বই বিতরণ উৎসবেও তারা যোগ দেবেন না।

বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোটের উদ্যাগে শিক্ষকদের এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। মহাজোটের অধীনে সহকারী শিক্ষকদের ১০টি সংগঠনের হাজার হাজার শিক্ষকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এ অনশনে যোগ দেন।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পাটি, পত্রিকা, পলিথিন বিছিয়ে পৌষের শীতের দুই রাত পার করেছেন ‘মানুষ গড়ার কারিগর’ শিক্ষকরা। শিক্ষক নেতারা জানান, অনশনে প্রায় অর্ধশত শিক্ষক অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকরা শুধু শনিবার শহীদ মিনারে অবস্থানের জন্য অনুমতি নিয়েছিলেন। রবিবার শহীদ মিনার ছাড়ার জন্য শিক্ষকদের অনুরোধও জানিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু অনড় শিক্ষকরা তাতে রাজি হননি। তবে আজ সোমবার অনশন স্থলে মাইক ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকরা।

এদিকে রোববার বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী শিক্ষকদের আমরণ অনশনে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অনশনকারী শিক্ষকদের দাবি, আগের বেতন স্কেলগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের ব্যবধান তিন ধাপ।

এখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম গ্রেডে (মূল বেতন ১০ হাজার ২০০) বেতন পাচ্ছেন। আর প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১০তম গ্রেডে (মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা)। সহকারী শিক্ষকরা এই বৈষম্য নিরসনে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিতে ১১তম গ্রেডে (১২ হাজার ৫০০) বেতন চান।

এ ছাড়া উন্নীত ধাপে প্রধান শিক্ষকরা যখন ৫৩ হাজার ৬০ টাকা স্কেলে বেতন পাবেন, তখন সহকারী প্রধান শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকদের প্রায় অর্ধেক ২৭ হাজার ৩০০ টাকা পাবেন বলেও জানান আন্দোলনরত শিক্ষকরা।