BTRCসেলফোন অপারেটরদের কল ট্যারিফ সীমা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নিজস্ব নেটওয়ার্কে (অননেট) কল করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম সীমা মিনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা ও অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্কে (অফনেট) সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা প্রস্তাব করে অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বর্তমানে সেলফোন অপারেটরদের কল ট্যারিফের সীমা ২৫ পয়সা থেকে ২ টাকা পর্যন্ত। অর্থাত্ এ সীমার মধ্যে ভয়েস কল বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে নিজেদের অনুমোদিত প্যাকেজ অনুযায়ী চার্জ নিতে পারে অপারেটররা। সম্প্র্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে এটি পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়।
কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, অননেটের ন্যূনতম কলরেট বাড়ানোর পাশাপাশি অফনেটে তা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। খাতটির রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক হবে এ উদ্যোগ।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অননেট কলে বিদ্যমান ন্যূনতম সীমা বাড়িয়ে ৩৫ পয়সা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এটি ২৫ পয়সা নির্ধারিত। এক্ষেত্রে গ্রাহক নিজস্ব নেটওয়ার্কে কল করলে তার পুরোটাই যাবে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে।

অন্যদিকে বিদ্যমান রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো অনুযায়ী অফনেট কলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে (টার্মিনেটিং) প্রতি মিনিটে ১৮ পয়সা ও ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) অপারেটরকে ৪ পয়সা করে দেয় মূল অপারেটর (অরিজিনেটিং)। অর্থাত্ অন্য অপারেটরে কলের ক্ষেত্রে মূল অপারেটরের ব্যয় হয় ২২ পয়সা। আর অফনেট কলে মূল অপারেটরের অংশ নির্ধারিত রয়েছে প্রতি মিনিটে ১৮ পয়সা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী অন্য অপারেটরে কল করার ক্ষেত্রে সব অপারেটরের জন্য সর্বনিম্ন কলরেট নির্ধারিত রয়েছে মিনিটপ্রতি ৬০ পয়সা। অর্থাত্ ২২ পয়সা ব্যয় বাদ দিলেও প্রতি মিনিট অফনেট কলে মূল অপারেটরের থাকছে ৩৮ পয়সা।

কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফনেট কলের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কলরেট কমিয়ে ৪৫ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে টার্মিনেটিং অপারেটরের (যে অপারেটরে কল যাচ্ছে) ১৮ পয়সা, আইসিএক্সের ৪ পয়সা ও অরিজিনেটিং অপারেটরের (মূল অপারেটর) ২৩ পয়সা। ন্যূনতম সীমার পাশাপাশি কল ট্যারিফের সর্বোচ্চ সীমায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান ২ টাকার স্থলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা কমিয়ে ৬০ পয়সা করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে সেলফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর বলেন, সেলফোনের ট্যারিফ বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে কম, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। আমরা মনে করি, এ ট্যারিফ বরং বাড়ানো উচিত। কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। এছাড়া ট্যারিফ বাড়লে তার বড় একটি অংশ পাবে সরকারই।
অপারেটরদের কলপ্রতি ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫ সালে অফনেট কলরেট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। ওই সময় অফনেটের ন্যূনতম কলরেট ৪০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় কমিশন। তবে এ প্রস্তাবনায় সে সময় অনুমোদন দেয়নি মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে সেলফোন অপারেটরদের অননেট কলরেট সবচেয়ে কম রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের। প্রতিষ্ঠানটির সর্বনিম্ন কলরেট মিনিটপ্রতি ৩০ পয়সা (৫ পয়সা প্রতি ১০ সেকেন্ডে) ও সর্বোচ্চ ৬০ পয়সা। এছাড়া প্যাকেজভেদে গ্রামীণফোনের অননেট কলরেট প্রতি ১০ সেকেন্ডে ২১-২৭ দশমিক ৫ পয়সা, রবির ৭-২২ পয়সা ও বাংলালিংকের ২২-২৭ পয়সা।

অফনেট কলের ক্ষেত্রে প্যাকেজভেদে প্রতি ১০ সেকেন্ডে টেলিটক ১৫ পয়সা, গ্রামীণফোন ২১-২৭ দশমিক ৫ পয়সা, রবি ১১-২৩ পয়সা ও বাংলালিংক ১২-২৯ পয়সা করে চার্জ করছে। এর বাইরে নির্দিষ্ট সংখ্যক (এফএনএফ) নম্বরে কল করার ক্ষেত্রে বিশেষ রেট রয়েছে।

বিটিআরসি ২০১০ সালের মার্চে ‘কস্ট মডেলিং, ইন্টারকানেকশন ফ্রেমওয়ার্ক অ্যান্ড ট্যারিফ পলিসি’ শীর্ষক প্রকল্প চালু করে। এর আওতায়ই নিয়মিতভাবে অপারেটরদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) প্রকল্পটিতে সহায়তা দিয়ে আসছে।

প্রতিবেশী ভারত গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কল টার্মিনেশন চার্জ কমিয়ে এনেছে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একইভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে কল টার্মিনেশনের এ চার্জ। সম্প্রতি ভারতে অপারেটরদের পক্ষ থেকে কল ট্যারিফ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হলেও তা নাকচ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই)। সংস্থাটি এ ধরনের সীমা নির্ধারণের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে।