Nirbhiknewsপরিবেশ সুরক্ষার জন্য গাছপালার ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের তাপমাত্রা বেশি।

তবে ঢাকা শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ পরিমাণ জায়গা দখল করে আছে ফাঁকা ছাদ, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বেশ সহায়ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এসব ছাদে সুষ্ঠুভাবে বাগান করা হলে তাপমাত্রা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যান তত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন জানান, ঢাকা শহরের চেয়ে গাজীপুরের তাপমাত্রা স্থানভেদে প্রায় ২-৪ ডিগ্রি কম। রাস্তার পাশে বা ছাদের বাগানে বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদের সংখ্যা পর্যাপ্ত পরিমাণ বাড়ানো হলে তাপমাত্রা প্রায় দুই ডিগ্রি কমানো সম্ভব। যা বিশ্বের তাপমাত্রা কমানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অবদান রাখবে।

শহর অঞ্চলে গাছপালা কম থাকায় অক্সিজেনের উৎপাদন কম, অন্যদিকে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়। যা গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

বায়ুতে বিদ্যমান যেসব উপাদান বা পার্টিকুলেট ম্যাটার বায়ুর তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী তা গাছের পাতা, কাণ্ড ও শাখায় লেগে থাকে এবং সেচ বা বৃষ্টির সময় ধুয়ে চলে যায়। ফলে তাপমাত্রা কমে।

গাছপালা গ্রীষ্মকালে তাপ গ্রহণ করে এবং শীতকালে তাপ বর্জন করে পরিবেশের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা পালন করে। বেশি বেশি গাছ রোপণ করলে তা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য উপাদান অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়।

ফলে শহর অঞ্চলে ফাঁকা জায়গা কম থাকায় বাসার ছাদ বা বেলকনিতেও সুন্দরভাবে বিভিন্ন গাছ ও সবজির বাগান করা যায়। যা প্রয়োজনীয় সবজি ও ফল- মূল উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ছাদে বা বেলকনিতে বাগান করার ক্ষেত্রে সাধারণত টবে গাছ রোপণের পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়। এভাবে যেসব গাছ বা সবজি রোপণ করা হয় এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আঙুর, কলা, আম, ডালিম, পেঁপে, পালং শাক, লেবু, করলা, পেয়ারা, আমলকি, লাল শাক, বেগুন, স্ট্রবেরি, লিচু, কমলা, ড্রাগনফল, জামরুল, টমেটো, লেটুস, চিচিঙ্গা ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছের চাষ করা যায়।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ এ বিষয়ে বলেন, শহর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছাদ বাগান প্রকল্প সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে তা কার্বন ডাই অক্সাইডসহ বেশকিছু ক্ষতিকর উপাদানের মাত্রা কমিয়ে দূষণ কমাবে এবং পরিবেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করবে। অপরদিকে পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

ছাদে বা বেলকনিতে বাগান প্রকল্প আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রেও কিছুটা অবদান রাখে। অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে বিষাক্ত ও কীটনাশকমুক্ত পুষ্টিকর সবজি ও ফল- মূল উৎপাদন করা যায় সহজেই। অবসর সময় কাটানোর জন্যও ছাদবাগান বেশ উপযোগী।