Nirbhiknewsরোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে এখনো আগুন জ্বলছে। সেখানে অনেকেই আপনজনদের হদিস পাচ্ছে না। নাফ নদীতে ছোট্ট শিশুর মরদেহ ভেসে বেড়াচ্ছে, মানুষের মরদেহ ভাসছে। এটা সম্পূর্ণ মানবতাবিরোধী কাজ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমরা কখনই সমর্থন করতে পারি না।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ করব, তারা যেন নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে। তারা যেন প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে যা যা সাহায্য দরকার, আমরা তা করব।
রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার যা করছে, তাকে মানবাধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ আমরা। সেখানে কোনো ঘটনা ঘটলে আমাদের ওপর চাপ পড়ে। এই যে
মানুষ আজকে এখানে এসেছে, আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। কারণ স্বজন হারানোর বেদনা যে কী, সেটা আমরা জানি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমরা কোনো ধরনের অন্যায়-অত্যাচার মেনে নিতে পারি না। এর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে আমরা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশে তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। যতদিন মিয়ানমার সরকার তাদের ফিরিয়ে না নেবে, ততদিন আশ্রয়ের ব্যবস্থা করব।

সরকার প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জরুরি সেবা শরণার্থীদের জন্য অব্যাহত রাখবে। তাতে কোনো সমস্যা হবে না। ১৬ কোটি মানুষের এ দেশ যদি সবার মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারে, তাহলে মিয়ানমারের শরণার্থীদেরও কোনো সমস্যা হবে না।
রোহিঙ্গাদের প্রতি সহনশীল হতে এলাকাবাসীর প্রতিও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব আশ্রিত মানুষের সঙ্গে কোনো অস্থির বা অমানবিক আচরণ করা যাবে না। সহনশীলতা ও মানবতার সঙ্গে যেন তারা এসব মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা বিবেচনা করেন।
আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থাই আজ মিয়ানমারের শরণার্থীদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি রিলিফ কমিটি গঠন করে তার মাধ্যমে ত্রাণ সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, স্থানীয় প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন।

সরকার বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে রিলিফ তত্পরতা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা শরণার্থীদের নাম, ঠিকানা, পরিচয় লিপিবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে তাদের কোনো সমস্যা হলে আমরা দেখভাল করতে পারি। তাদের দেখভাল করাটা আমাদের দায়িত্ব।

একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যদি ফায়দা লোটার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুতরাং বিচ্ছিন্নভাবে হলেও কেউ যেন এ ধরনের কোনো অপচেষ্টার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো রকমের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ আমরা কখনো মেনে নেব না। আমাদের মাটি ব্যবহার করে কেউ সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদী কাজ করবে, তাও আমরা বরদাশত করব না। এর আগে সকালে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে উখিয়ায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছে সেখানে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের নারী, পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন। রোহিঙ্গা নারীরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তারা এক বস্ত্রে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে। কিছুই সঙ্গে আনতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় তার ছোট বোন শেখ রেহানাও ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উখিয়ায় যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, হুইপ ইকবালুর রহিম, কক্সবাজার-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবু রেজা মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন নদভী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম, মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক ও র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও উখিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে কক্সবাজার হিলটপ সার্কিট হাউজে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বিকালে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।