nirbhiknewsআগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এ শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মোট ভ্যাটের হার, টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা ও সম্পূরক শুল্ক আইনে কিছু পরিবর্তন এনে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক করা হবে।

গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট হেল্প ডেস্কের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভ্যাট আইন সংশোধন হচ্ছে, এটা বলতে পারেন। তবে ভ্যাটের হার কী হবে, তা এখন বলছি না। বাজেটে সবকিছু থাকবে। আইনটি সংশোধন করে স্বস্তিদায়ক করা হচ্ছে।
ভ্যাটের হার নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ভ্যাটের হার নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনাকে আমি শুধু রাবিশ হিসেবে উল্লেখ করব। এ বিষয়ে আমার একমাত্র মন্তব্য ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবনা ‘রাবিশ’।

সব পণ্য ও সেবা খাতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণসহ নতুন আইনের বেশকিছু বিষয়ের বিরোধিতা করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আগের আইনের মতো প্যাকেজ ভ্যাট বহাল অথবা টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা ১ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ, কিছু পণ্য ও রফতানি-সংশ্লিষ্ট শিল্পকে ভ্যাটমুক্ত রাখা এবং ভ্যাটের হার ১০ শতাংশের নিচে রাখার দাবিও জানিয়ে আসছেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে আরো আছে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় মূলধনি পণ্য আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখা, নির্মাণ খাতসহ কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাটের পরিবর্তে ট্যারিফ ভ্যালু বহাল রাখা, অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট প্রত্যাহার এবং আইনে এনবিআর কর্মকর্তাদের ক্ষমতা কমানো। এসব দাবি না মেনে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করলে আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছে এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো।

অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে ব্যবসায়ীদের আন্দোলন দমনের হুঁশিয়ারি এলেও শেষ মুহূর্তে আইনে কিছু সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশেই ভ্যাটের হার কমানো, টার্নওভার ট্যাক্সের সীমা ৩০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা এবং প্রায় সাড়ে ৬০০ পণ্যে সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখার ব্যাপারে কাজ চলছে বলে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে রফতানিতে আগের আইনের বিশেষ সুবিধাও এ আইনে বহাল ও প্রচ্ছন্ন রফতানি পণ্য উত্পাদনে বিভিন্ন সময় এসআরও সুবিধা বহাল রাখার কথা ভাবছে এনবিআর। আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসব চূড়ান্ত হবে।

এদিকে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট নিবন্ধনে উত্সাহ প্রদানে এনবিআর চারটি বাসে ‘ভ্যাট অনলাইন মোবাইল হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করেছে। গতকাল এনবিআর প্রাঙ্গণে এর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। এসব বাস প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটের সামনে যাবে। বাসে ঢাকার ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের জন্য ল্যাপটপসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে প্রস্তুত থাকবেন। এছাড়া ঢাকায় আরো তিনটি ও চট্টগ্রামে দুটি বাস নামানো হবে।