Rise-sunamganje-agricultarকয়েক বছর ধরে সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে ফসল ঘরে তুলতে পারলেও ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। প্রতি বছরের মতো এ বছর সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে এখনো ধান সংগ্রহ না করার কারণে কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। শুধু চাল সংগ্রহ শুরু হওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকেরা বঞ্চিত রয়েছেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম থেকে। কারণ চাল দিচ্ছেন শুধু চালের মিলমালিকেরা।

গত ২ মে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান-চাল ক্রয় কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে মাত্র এক দিন হলো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে সরকারিভাবে ধান-চাল ক্রয়কার্যক্রম। ফলে কৃষকেরা জীবনযাপনের তাগিদে স্বল্পমূল্যে স্থানীয় ফরিয়াদের কাছে ধান-চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পর পর কয়েক বছর ফসল হারিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন হাওরপাড়ের কৃষকেরা। সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে গুদামগুলোতে সঠিক সময়ে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু না করায় স্বল্পমূল্যে স্থানীয় ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করতে হয়েছে কষ্টার্জিত সোনালি ধান। ধান কাটতে শ্রমিক সঙ্কটের পাশাপাশি অর্থসঙ্কটেও ছিলেন কৃষকেরা। বাধ্য হয়ে শ্রমিকের মজুরি ও ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের চাহিদা পূরণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে মণপ্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০টাকা দামে ধান বিক্রি করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন কৃষকেরা। সঠিক সময়ে সরকারিভাবে খাদ্যগুদামগুলোতে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু না করায় কৃষকদের মাঝে চরম হতাশাও দেখা দিয়েছে। চলতি বছর সুনামগঞ্জ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ছয় হাজার টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। তবে প্রকৃত কৃষকেরা ধান গুদামে বিক্রি করতে পারবেন কি না তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।

জামালগঞ্জের কৃষক ফারুখ মিয়া বলেন, সরকার এ বছর কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করতে দেরি করায় স্বল্পমূল্যেই স্থানীয় বেপারিদের কাছে সাড়ে ৫০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। আর সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গেলেও ধরতে হয় বিভিন্ন দালাল ও সরকারি দলের নেতাদের। এত ঝামেলা সহ্য করে কোনো লাভ হয় না। কৃষক সজল মিয়া বলেন, গত দুই বছর ফসল হারিয়ে এবার মোটামুটি ভালো ফসল পেয়েছি, কিন্তু ধানের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় খরচই উঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। প্রত্যেক বছর সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান কিনলেও এবার অনেক দেরি করেছে। তবে শুনেছি ২৬ টাকা কেজি ধরে ধান কেনা হবে কৃষকদের কাছ থেকে।

এ ব্যাপারে উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা দীপক তালুকদার বলেন, জনপ্রতিনিধি, কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে যদি কৃষকদের তালিকা তৈরি করা যেতো তাহলে প্রকৃত কৃষকেরাই গুদামে সরাসরি ধান বিক্রি করে লাভবান হতো।

জামালগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ আল আজাদ বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে প্রকৃত কৃষকরা গুদামে সরাসরি ধান দিতে পারেননি এক শ্রেণীর দালালদের কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে এটা মনিটরিং করার দাবি জানাচ্ছি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা খাদ্যকর্মকর্তা মো: আব্দুর রউফ জানান, ধান কেনার সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। তাই এখনো ধান কেনা শুরু করতে পারছেন না। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত পাওয়ার সাথে সাথে ধান কেনা শুরু করা হবে। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনতে পারলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।

জামালগঞ্জ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা অসীমকুমার তালুকদার বলেন, চাল কেনার অনুমতি পেয়েছি, তবে ধান কেনার ব্যাপারে এখনো কোনো নির্দেশ পাইনি।