nirbhikজাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের ১৮(১) ধারা অনুযায়ী কমিশন সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা তাদের কোনো সদস্যের বিরম্নদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে সরকারের কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। সরকারের দায়িত্ব ওই প্রতিবেদন দ্রম্নত কমিশন বরাবর দাখিল করা। এ ব্যাপারে কমিশন কোনো সুপারিশ করলে তা বাস্ত্মবায়ন করে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কমিশনকে জানানোর কথাও রয়েছে ওই আইনে।
কিন্তু বাস্ত্মবে দেখা যায়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো অভিযোগগুলোর অধিকাংশই ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ মর্মে ফেরত পাঠানো হয়। আবার কোনো কোনো ঘটনার তদন্ত্ম করতেই কাটিয়ে দেয়া হয় বছরের পর বছর।

জানা গেছে, ২০১২ সালে কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৪টি, ২০১৩ সালে ১০টি, ২০১৪ সালে ৫৩টি, ২০১৫ সালে ৭৩টি, ২০১৬ সালে ১৬টি এবং ২০১৭ সালে ২৯টি অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ এ বছরের ২৬ ফেব্রম্নয়ারি এসব অভিযোগের একটি তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে উলেস্নখ করা হয়েছে, কমিশনে দায়ের করা অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বিভিন্ন সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ হেড কোয়ার্টারে প্রতিবেদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনেক অভিযোগ নিষ্পত্তি হলেও ১৫৬টি এখনো প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন আবারও একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে।

জটিলতা এড়াতে আগামীতে সুশীল সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কমিশন নিজস্ব তদন্ত্ম কমিটি গঠনের কথা ভাবছে। কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য কারা দায়ী, তার রূপরেখা তুলে ধরে সংশিস্নষ্ট এজেন্সির কাছে দিয়ে থাকি। সেদিকে আইনের কোনো ঘাটতি আছে বলে মনে করি না। কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। সরকারি কর্মচারীদের মাইন্ডসেট হয়ে আছে। তা হলো, এভাবে আসা অভিযোগ তারা গুরম্নত্ব দিতে চান না। আগে একেবারেই গুরম্নত্ব দিতেন না, এখন একটু গুরম্নত্ব দেন। প্রতিবেদন পাঠান।’
কমিটি গঠন প্রসঙ্গে রিয়াজুল হক বলেন, ‘অভিযোগগুলো যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরম্নদ্ধে, তখন তাদের দিয়ে তদন্ত্ম করানোটা যৌক্তিক হয় না অনেক সময়। সে কারণে এখন আমরা চাই, এমন একটি কমিটি করতে, যেটি প্রতিনিধিত্বশীল হবে। বিভাগীয় ব্যক্তিদের বিরম্নদ্ধে তদন্ত্মে অস্বস্ত্মি বোধ করবে না।’

মানবাধিকার কমিশন চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এসব ঘটনায় ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি’ ধরনের দায়সারা প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হলে কমিশন ওই প্রতিবেদন ফেরত পাঠাতে পারে। কিন্তু তাতেও কোনো লাভ নেই। যে বিভাগের যে সরকারি কর্মচারীর বিরম্নদ্ধে অভিযোগ, তারা কি নিজেদের বিচার করতে পারবে?’

সম্প্রতি একের পর এক নিখোঁজের ঘটনার উলেস্নখ করে রিয়াজুল হক আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি নিজের কারণে বা রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে নিখোঁজ হলে খোঁজার দায়িত্ব রাষ্ট্রেরই। প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার আছে। যেই নিয়ে যাক, খুঁজে বের করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ করার বাইরে কোনো কাজ নেই মনে হলেও আমাদের বিভিন্ন বিবৃতির কারণে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হতে দেখা যায়।’

অভিযোগ পাঠানোর পর কতভাগের উত্তর পান জানতে চাইলে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা অভিযোগ দিয়ে তারিখ নির্দিষ্ট করে দিই। এরপর তাগিদ দিতে থাকি। প্রতিবেদন পেতে পেতে এক বছরও পার হয়ে যায়। কিন্তু যখন কাঙ্ক্ষিত প্রতিবেদন আসে, সেখানে লেখা থাকে, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ এজন্যই আমরা নিজেরা তদন্ত্ম করে তবে পরের প্রক্রিয়াগুলোর জন্য পাঠানোর বিষয়ে ভাবছি।