Nirbhiknewsআগামী ৩ ডিসেম্বর কম্বোডিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া দুটি চুক্তি ও আটটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আসন্ন এ সফরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সরাসরি বিমান চলাচল চুক্তির বিষয়ে জোর দেয়া হলেও চুক্তির শর্তাদি চূড়ান্ত করতে না পারায় এ সফরে চুক্তিটি হচ্ছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আগামী ৩ ডিসেম্বর কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ৩ দিনের সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে প্রাথমিকভাবে মোট ১২টি চুক্তি ও সমঝোতা সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ মুহূর্তে সরাসরি বিমান চলাচল চুক্তিসহ আরও একটি চুক্তি বিলম্বিত হয়ে যায়। ফলে প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে কম্বোডিয়ার সঙ্গে ২টি চুক্তি ও ৮টি সমঝোতা সই হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ইস্যু। কারণ আশিয়ান জোটের অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র কম্বোডিয়া এবং মিয়ানমার।

আশিয়ান ফোরামে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধিতে কম্বোডিয়ার সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদ সম্মেলন করবেন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য কূটনৈতিক ও অফিসিয়ালদের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি হয়েছে। এবারে প্রধানমন্ত্রীর সফরে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে দুই দেশের যোগাযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধিকে।

সূত্র জানায়, কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বর্তমানে খুব সীমিত। তবে আগামীতে বাণিজ্য বর্তমানের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। কারণ ২০১৫ সাল থেকে আশিয়ান ইকোনমিক ইন্টিগ্রেশন বা অর্থনৈতিকভাবে একত্রীকরণের দিকে যাচ্ছে।

তারই সুবিধা পেতে চায় বাংলাদেশ। এতে করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পণ্য পরিবহন, জনশক্তির আদান-প্রদান, মুক্ত সেবা, শুল্ক ও অশুল্কসহ কোনো ধরনের বাধা থাকছে না। আশিয়ানভুক্ত দেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার মাধ্যমে এ একত্রীকরণ সুবিধা ভোগ করতে পারবে বাংলাদেশও। ফলে অশিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি ঢাকায় দ্বিপাক্ষিক সফরে আসেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। বাংলাদেশ সফরে চারটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা সই হয়।

সেগুলো হলো, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও বৃদ্ধিবিষয়ক সমঝোতা, সংস্কৃতি খাতে সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা, দুই দেশের কৃষি খাতে সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা এবং দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের নিয়তিম বৈঠকের বিষয়ে সহযোগিতাবিষয়ক যৌথ কমিশন সমঝোতা স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া।

এর আগে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি সই হয়েছে। এছাড়া ২০০৬ সালের জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি সহায়কবিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।