trump+kim jon un_ north+korea

ট্রাম্প-কিম বৈঠক বাতিল:—–

বিশ্ব আলোচিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি আমেরিকা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল যা যুদ্ধে উপনিত হওয়ার শান্তভাব আসার পর পরই আবার উত্তেজনায় মোর নিচ্ছে কিম-ট্রাম্প সম্পর্ক।

বিভিন্ন ইস্যু টেনে নিয়ে উত্তর কোরিয়া এখন শান্তি আলোচনায় পুনর্বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে। সিঙ্গাপুরে  ট্রাম্প-কিম উচ্চ পর্যায়ের এ শান্তি আলোচনা বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ দুদেশের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে যুগান্তকারী ও ইতিবাচক। কিন্তু সম্প্রতি ‍এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, পারমানবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে এক পাক্ষিক চাপ প্রয়োগ করলে ট্রাম্প-কিম উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠক তারা করবে না।

পাশাপাশি গতকাল সিউলের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক বাতিল করেছে পিয়ংইয়ং। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চলমান ম্যাক্স থান্ডার যৌথ সামরিক মহড়াকে ‘বর্বর এবং দুষ্ট উসকানি’ আখ্যা দিয়ে এ বৈঠক বাতিল করা হয়। ফলে কয়েক মাস ধরে উপদ্বীপটিতে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ার পর হঠাৎ করেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল। খবর এএফপি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার প্রথম উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম কিয়ে গোয়ানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগের জন্য কোণঠাসা করার চেষ্টা করে, তবে আমরা এ ধরনের আলোচনায় আর উৎসাহী হব না। তিনি আরো বলেন, সেক্ষেত্রে আগামী মাসের ১২ তারিখে সিঙ্গাপুরে হতে যাওয়া শীর্ষ বৈঠকটিতে যোগ দেয়ার বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করবে পিয়ংইয়ং।

পরিকল্পিত বৈঠকটিতে উত্তরের পারমাণবিক কর্মসূচি প্রধান এজেন্ডা হলেও বহুদিন ধরেই পিয়ংইয়ং বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্যই তাদের অস্ত্র প্রয়োজন।

ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের ওপর সম্পূর্ণ, যাচাইযোগ্য এবং অপরিবর্তনীয় নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে চাপ প্রয়োগ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোরিয়া এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি।

মন্ত্রী কিম বলেন, পিয়ংইয়ং বেশ কয়েকবারই পরিষ্কার করে জানিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণের পূর্বশর্ত হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে হিংসাত্মক নীতি বর্জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হুমকি কিংবা ব্ল্যাকমেইল বন্ধ করা।

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বার্ষিক ‘ম্যাক্স থান্ডার’ নামে বিমানবাহিনীর মহড়া গত ১৪ মে থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু হয়েছে, যা ২৫ মে পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি করেছে উত্তর কোরিয়া। অনেক দিন ধরে এ ধরনের মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে দেশটি।

মন্ত্রী কিম যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের আলোচিত ‘লিবীয় মডেলে’ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণেরও নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের গর্বিত দেশকে লিবিয়া কিংবা ইরাকের ভাগ্য বরণ করানোটি একটি শয়তানি চাল। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ রকম অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমি আমার ঘৃণা চেপে রাখতে পারছি না এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছি।

উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন থেকে রক্ষার জন্যই দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র প্রয়োজন। উল্লেখ্য, নিজের পারমাণবিক প্রকল্প বর্জন করার পর ন্যাটোর সহায়তায় এক অভ্যুত্থানে নিহত হন লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সম্প্রতি দুবার পিয়ংইয়ং সফর করেছেন এবং দ্বিতীয় সফরে সে দেশে আটককৃত তিন মার্কিন বন্দিকে ফিরিয়ে নেয়ার সময় জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে আর্থিক সাহায্য দেবে।

তবে পম্পেওর প্রস্তাবকে খারিজ করে দিয়ে মন্ত্রী কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সাহায্য করবে— এ রকম প্রত্যাশা আমাদের কখনই ছিল না এবং ভবিষ্যতে কখনই আমরা এমন কোনো চুক্তি করব না।

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি আলোচিত বৈঠক ছাড়াও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম দুবার চীন সফর করে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার হুমকি সত্ত্বেও গতকাল চীন কিম ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকটি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লি কিউয়াং এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স ফক্স নিউজকে বলেন, আমরা এখনো আশাবাদী বৈঠকটি হবে এবং একই সঙ্গে প্রস্তুত হচ্ছি, এটি হবে একটি কঠিন বোঝাপড়া।