Nirbhiknewsউড়োজাহাজের যাত্রীদের টিকেটিং সেবায় নিয়োজিত ট্রাভেল এজেন্টদের কমিশনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ধার্য থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকে তা আদায় করতে পারছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঢাকার কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে এ ভ্যাট আদায় হলেও ঢাকার বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই সর্বশেষ অর্থবছরে তা আদায় করতে পারেনি সংস্থাটি।

এনবিআর বলছে, দীর্ঘদিন এ সেবা ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় থাকায় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সব প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাটের অর্থ আদায় করা যায়নি। অন্যদিকে এজেন্সি মালিকরা বলছেন, টিকিটের কমিশনের ওপর ভ্যাট প্রযোজ্য নয়। তাই তারা ভ্যাট দেয়া থেকে বিরত থাকছেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ট্রাভেল এজেন্সির কমিশনের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছিল সরকার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করা হয়। এর পর থেকে সারা দেশে নিবন্ধিত তিন হাজারের বেশি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে ভ্যাট আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হলেও সর্বশেষ অর্থবছরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তা দেয়নি। এরই মধ্যে ভ্যাট না দেয়া এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা ধরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। এজন্য ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকার বাইরের প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্যাট আদায়ে স্থানীয় কার্যালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের মূসক বাস্তবায়ন বিভাগের প্রথম সচিব শামসুল আলম বলেন, ঢাকার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ভ্যাট আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই শাখা অফিসের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় তাদের ভ্যাটের আওতায় আনতে জটিলতায় পড়তে হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই ঢাকার কার্যালয় থেকে ভ্যাট পরিশোধ করা হচ্ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের কাছে তা জমা দিচ্ছে না। এ বিষয়টি সমাধানে ঢাকার অফিসের তালিকা করে ঢাকার বাইরে পাঠানো হচ্ছে।

এনবিআর বলছে, কমিশনের ভিত্তিতে উড়োজাহাজের টিকিট বিক্রির কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের কাজে ভ্যাট প্রযোজ্য। ২০০৯ সালে জনশক্তি রফতানি কমে যাওয়ায় এ খাতে ভ্যাট অব্যাহতি দেয় সরকার। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে আবারো তা আরোপ করা হয়। টিকিট বিক্রির বিপরীতে এয়ারলাইনস কোম্পানিগুলো থেকে ৭ শতাংশ হারে কমিশন পায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। এনবিআরের তথ্যমতে, সারা দেশে এ ধরনের তিন হাজারের বেশি ট্রাভেল এজেন্সি আছে। এর মধ্যে ঢাকায় ২ হাজার ৪৭১টি, চট্টগ্রামে ৩১৩ ও সিলেটে ১৯৬টি এবং অন্যান্য জায়গায় কয়েকশ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সর্বশেষ অর্থবছরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই ভ্যাট না দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

এনবিআরের পক্ষ থেকে টিকিটের কমিশনের ওপর ভ্যাট দাবি করা হলেও তা অযৌক্তিক বলছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (অ্যাটাব)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে ২০০৯ সালে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হলেও ২০১১ সালে তাদের ওপর ওডব্লিউ ট্যাক্স নামে এক ধরনের নতুন করারোপ করা হয়। যাত্রীদের টিকিটের মূল্যের ওপর সব ট্রাভেল এজেন্সি এ কর পরিশোধ করছে। এছাড়া তখন থেকেই টিকিটের মূল্য নির্ধারণের সময় ভ্যাট যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে অ্যাটাবের মহাসচিব আসলাম খান বলেন, টিকিটের মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট যোগ করে দাম নির্ধারণ করেছে এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠানগুলো। ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে ওই মূল্য থেকেই সামান্য কমিশন দেয়া হয়। ওই কমিশনের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপ করা হলে তা দ্বৈত কর হিসেবে পরিগণিত হবে। অ্যাটাবের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। নতুন করে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারে অর্থমন্ত্রী এরই মধ্যে একটি আদেশও দিয়েছেন। ওই আদেশ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকায় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ভ্যাট পরিশোধ করেনি।