north-korea-banচট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে বিবিরহাট পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে সওজ চট্টগ্রাম সার্কেল। চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পটি একনেকে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির যোগাযোগ সহজ হবে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী থেকে বিবিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণে ২০১৬ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই ও জরিপ করে চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেল। এর ধারাবাহিকতায় ৩৩৬ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করে চলতি বছরের ২৮ মার্চ মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে অনুমোদন পেলে বছর শেষের আগেই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে।

ডিপিপি প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাটহাজারী-মানিকছড়ি-খাগড়াছড়ির আর-১৬০ নম্বর সড়কটি চট্টগ্রামের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। সড়কটির চট্টগ্রাম অংশের ৩২ কিলোমিটার (হাটহাজারী থেকে বিবিরহাট পেরিয়ে আরো ৮ কিলোমিটার) বর্তমানে ১৮ ফুট প্রশস্ত। ভারী যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সওজের পক্ষ থেকে সড়কটিকে ২৪ ফুট বা ৭ দশমিক ৩ মিটার প্রশস্ত করার এবং সড়কের উভয় পাশে আরো ১০ ফুট বা ৩ মিটার হার্ড শোল্ডার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। সবমিলে বর্তমানে ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পের আওতাধীন সড়কের ৯০ শতাংশ অংশের উভয় পাশে সওজের নিজস্ব ভূমি থাকায় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ছাড়াই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ৩২ কিলোমিটার এ সড়কে মোট ৩০টি ছোট ও মাঝারি আকারের কালভার্ট নির্মাণ ও প্রশস্ত করা, হাটহাজারী থেকে সরকারহাট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় পাঁচ একর ভূমি অধিগ্রহণ করার পাশাপাশি সড়কটির বিভিন্ন অংশের বাঁক সরলীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। উভয় পাশে দেড় মিটার করে হার্ড (হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য নির্মিত সড়ক) শোল্ডার নির্মাণের প্রস্তাব থাকায় প্রায় চার লেনের মতোই যানবাহন চলাচলের সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রকল্প এলাকায় শুধু হাটহাজারী থেকে সরকারহাট পর্যন্ত পাঁচ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। সরকারহাট থেকে বিবিরহাট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে সওজের জমি অধিগ্রহণ করা রয়েছে। এ সুবাদে প্রস্তাবিত সড়কটিতে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ৩৬ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে সওজের চট্টগ্রাম সড়ক সার্কেলের অতিরিক্ত প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারিক ইকবাল  বলেন, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের সঙ্গে হাটহাজারী পর্যন্ত সড়কটি চার লেন হয়ে যাওয়ায় হাটহাজারীর সঙ্গে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ সহজ করতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। হাটহাজারী-বিবিরহাট সড়কটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা হলে দুর্ঘটনা ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। প্রকল্পটি বর্তমানে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একনেকে পাস হলে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার চট্টগ্রামের সঙ্গে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সড়কগুলো সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার পর্যটন সম্ভাবনা থাকলেও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত থাকায় কাঙ্ক্ষিত পর্যটক আসছে না। সওজ এরই মধ্যে ফটিকছড়ির হেঁয়াকো-হাইডচরিয়া পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণ করতে ২৪৬ কোটি টাকার আরো একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটির ডিপিপি এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। হাটহাজারী থেকে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া পর্যন্ত আরো একটি সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এছাড়া পার্বত্য জেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন কালভার্ট মেরামত, সড়ক সম্প্রসারণ বাঁক সরলীকরণের কাজ শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত হাটহাজারী-বিবিরহাট সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে জমি অধিগ্রহণ ছাড়াও চট্টগ্রাম শহরের অক্সিজেন থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে সওজ। সড়কটিতে ৩০টি ছোট ও মাঝারি কালভার্ট থাকলেও বড় ধরনের কোনো সেতু না থাকায় প্রকল্পের ব্যয় ও সময় তুলনামূলক কমে এসেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে যেতে ৪ ঘণ্টা সময় লাগলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মাত্র ৩ ঘণ্টায় খাগড়াছড়ি পৌঁছানো সম্ভব হবে।