Nirbhiknewsআওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খাঁচায় বন্দী সিংহ যেমন শুধুই হুংকার করতে পারে। আপনিও (খালেদা) শুধু হুংকার করতে পারবেন, কিন্তু কিছুই করতে পারবেন না। এভাবে হুংকার দিয়ে কোনো লাভ নেই। আপনার বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে দেশে আবার জ্বালাও পোড়াও এর পরিবেশ সৃষ্টি হবে। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিড়িয়াখানার ‘রোগা’ সিংহ বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী হকার্স লীগের সভাপতি জাকারিয়া হানিফের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য নাভানা আক্তার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি গোলাম মাওলা প্রমুখ।

হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সমাবেশ করে তাদের সাথে উপহাস করেছেন। যারা দেশটা চায়নি, যারা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছে, তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, আপনি বলেছেন দেশ নাকি পাকিস্তানের মত করে চলছে। আপনি তো দেশটাকে পাকিস্তানিদের মতো করে চালাতে চান। সেজন্য সাবেক প্রধানবিচারপতিকে সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিলেন। সাবেক প্রধান বিচারপতির কিছু না করতে পেরে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, দেশে জ্বালাও পোড়াও করার চেষ্টা করবেন না। দেশের মানুষ আপনাদের ছাড় দেবে না। এটা ২০১৪-১৫ ও ২০১৬ সাল না। এটা ২০১৭ সাল। কয়েক দিন পর ২০১৮ সাল। আপনাদেরকে কেউ ছেড়ে দেবে না।

বিএনপি ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়া পরিবারের দুর্নীতির পক্ষে নির্লজ্জ আস্ফালন করছেন বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নতুন কিছু নয়। খালেদা জিয়া ও তার পরিবার আগেও দুর্নীতি করেছে।

তিনি বলেন, জিয়া পরিবারের দুর্নীতি অতীতে প্রমাণও হয়েছে। তখনও তারা নির্লজ্জের মত মিথ্যা প্রচার করেছিল, এখনও করছে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, খালেদা জিয়াকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা দুদককে আহবান জানাবো তাঁর দুর্নীতি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে দুর্নীতি এসব নাকি মিথ্যা। এর আগে তারেকের দুর্নীতি যখন বেরিয়ে এসেছিল তখনও তিনি মিথ্যা প্রচার করেছিল। তারেকের সব প্রমাণ হয়েছে। তার বিদেশের দুর্নীতির টাকা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অতীতের মত এবারও দুর্নীতি প্রমাণ হবে। খালেদা জিয়ার টাকাও ফেরত আনা হবে। আমি সরকারের কাছে আহবান জানাচ্ছি ফখরুলসহ যারা মিথ্যাচার করছে, নির্লজ্জ আস্ফালন করছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বলেন, বিএনপি মানবাধিকারের কথা বলে মাঝে মাঝে। বিএনপি মানুষ পুড়িয়ে মেরেছিল। বাবার সামনে সন্তানকে পুড়িয়ে মেরেছিল। ঘুমন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল তখন মানবাধিকার কোথায় ছিল? বিএনপির মুখে মানবাধিকার মানায় না।

বিএনপির নেতারাই দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি চেয়ে তাকে বাই বলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিএনপির অনেক নেতাই সরকারের সাথে তলে তলে যোগাযোগ করছেন। কারণ তারা চায় বেগম জিয়ার শাস্তি হউক। আর খালেদা জিয়ার শাস্তি হলেই তারা খালেদাকে টা টা বাই বাই দিয়ে অন্য কোন দল গঠন করবে নয়তো সরকারের সাথে আসতে চাইবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগ নেতা এমএ করিম, বলরাম পোদ্দার প্রমুখ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া যখন দুর্নীতিতে বিদেশে ধরা পড়েছে তখন আপনারা চুপসে গেছেন। আপনাদের মুখে কোন কথা নেই। এটি যদি আজ দেশের কোন পত্রিকা প্রকাশ করত তাহলে বলতেন এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। এখন আর কিছু বলতে পারছেনা। কারণ বিদেশের পত্রিকায় খালেদা জিয়ার অবৈধ অর্থের কথা প্রকাশ করেছে।

সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। আর এখন তিনি নিজেই দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলেন।

খালেদা জিয়ার অবৈধ অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনার দাবি জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই মুখপাত্র বলেন, এর আগেও তারেক, কোকোর অবৈধ অর্থ দেশে ফেরত আনা হয়েছে। আমি দাবি জানাবো সরকার যেন সেই প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার অবৈধ অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনে।