Kuakata News Pic-01 (08-08-2017)কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি : কুয়াকাটার আদিবাসী রাখাইনদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে কুয়াকাটায় রাখাইন কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করার পরপরই সেটি বেদখল হয়ে যায়। নির্মাণের কয়েক মাস পর থেকেই সেখানে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পরিবর্তে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কুয়াকাটা শাখায় ব্যাকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভাড়া দেয়া হয়েছে। ফলে সরকারের মহতি উদ্যোগ কোন কাজে আসছে না।

উপজাতী রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংস্কৃতির চর্চা ধরে রাখতে ১৯৯৮ সালে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডির তত্বাবধানে কুয়াকাটায় রাখাইন কালচারাল একাডেমী ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। কুয়াকাটার রাখাইন সম্প্রদায়ের অভিযোগ, রাখাইনদের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। কুয়াকাটা কেরানী পাড়ার তরুন সমাজ কর্মী উয়েন মং উচো এ প্রতিবেদককে বলেন, ভবন নির্মাণের পর থেকে বেদখল হয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল চার হাজার টাকার মাসিক চুক্তিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুয়াকাটা শাখার কাছে ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি ভাড়া দেয়। তিনি আরও জানান, রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েল ফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের তৎকালীন সভাপতি অংশাচিং ভাড়া দেয়ার চুক্তিপত্রে সই করেছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে বসবাস করেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাখাইন সমাজপতি জানান, ‘তখন কুয়াকাটায় ব্যাংক চালু করার লক্ষ্যে ভাল কোন ভবন না থাকায় তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে অনেকটা বাধ্য হয়ে ভাড়া দিয়েছেন তারা। ভবনের নিচতলায় বসবাস করা রাখাইন অংথান জানান, কেরানিপাড়ায় রাখাইনদের জন্য সরকারিভাবে দেয়া আবাসন প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু সেখানে তিনি দখল বুঝে না পাওয়ায় তাকে থাকতে দেয়া হয়েছে ভবনের নিচ তলায়।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, ভবন করে দেয়ার পর সেটি রক্ষণাবেক্ষণের দায় দায়িত্ব রাখাইনদের। তারা এটাকে কিভাবে ব্যবহার করবে এটা তাদেরকেই ঠিক করতে হবে বলে সাংবাদিকদের তিনি জানান ।