সিলেট: শিশু সামিউল আলম রাজনকে (১৩) পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে সিলেটে নেওয়া হয়েছে।

বৃহবৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। পরে সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান।

তিনি জানান, এখন থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোন সময়ে আদালতে হাজির করা হবে কামরুলকে।

এর আগে সন্ধ্যার দিকে তাকে নিয়ে সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা দেয় পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, সন্ধ্যায় কামরুলকে নিয়ে ঢাকা থেকে সড়কপথে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে কামরুলকে নিয়ে সৌদি আরব থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় পুলিশের ৩ সদস্যের টিম।

ওই টিমের সদস্যরা হলেন— পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত সুপার মাহাবুবুল করিম, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার এ এফ এফ নেজাম উদ্দিন।

গত সোমবার তারা কামরুলকে দেশে ফেরাতে সৌদি আরবে যান। ইন্টারপোলের মাধ্যমে কামরুলকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

৮ জুলাই সিলেটে শিশু রাজনকে চোর অপবাদ দিয়ে কামরুলসহ আরো কয়েকজন মিলে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ মোবাইল ফোনে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ওই ঘটনার তদন্ত শেষে মোট ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে জালালাবাদ থানা পুলিশ। এর মধ্যে ১০ জনকে আগেই গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার দুই দিন পর ১০ জুলাই প্রধান আসামি কামরুল জেদ্দায় পালিয়ে যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে তাকে আটক করে।

কামরুল ছাড়া রাজন হত্যা মামলার বাকি আসামিরা হলেন- মুহিদ আলম, আলী হায়দার, শামীম আহমদ, পাভেল আহমদ, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।