http://nirbhiknews.com/wp-content/uploads/2018/06/sayed-waliollah.jpgকথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর গুলশানের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেছেন তার ছেলে।

ওয়ালীউল্লাহর ছেলে ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে এই অভিযোগ দায়ের করেন। মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার অভিযোগ শুনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে বলে বাদীপক্ষের অন্যতম আইনজীবী দীপঙ্কর ঘোষ জানান।

বাদীর প্রধান আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ তার বাবার মামাতো ভাই কামাল জিয়াউল ইসলাম (কে জেড ইসলাম), তার স্ত্রী খাদিজা ইসলাম ও তাদের ছেলে রায়হান কামালের বিরুদ্ধে করা এই ফৌজদারী মামলায় ‘অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ, সম্পত্তি আত্মসাৎ ও জালিয়াতির’ অভিযোগ এনেছেন।

আর্জিতে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের সময় প্যারিসে চাকরিতে থাকাকালে ১৯৭১ সালের ১০ অক্টোবর মারা যান সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ। তখন গুলশানে তার ১ বিঘা ২ কাঠা জমির প্লট এবং ভবনের মালিকানা তার ফরাসি স্ত্রী আন-মারি লুই রোজিতা মার্সেল (নাসরীন ওয়ালীউল্লাহ) এবং তাদের দুই সন্তান ইরাজ ওয়ালীউল্লাহ ও সিমিন ওয়ালীউল্লাহর নামে নামজারি করা হয়।

প্যারিসে অবস্থানরত ইরাজ ও তার মা-বোন ওই বাড়ি দেখাশোনার জন্য ১৯৮১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ালীউল্লাহর আপন মামাতো ভাই কামাল জিয়াউল ইসলামকে আম-মোক্তারনামা দিয়েছিলেন।

সেখানে মালিকের স্বার্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কথা থাকলেও কামাল জিয়াউল ইসলাম তার স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ওই ভবন ও জমির মালিক সেজে তা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘নির্মাণ বিল্ডার্স’ সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।”
অভিযোগে বলা হয়, ওই আমমোক্তারনামা পাওয়ার আগে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে আরেকটি আম-মোক্তারনামা তৈরি করে ওই জমি ও ভবন বন্ধক দিয়ে ঋণ নেন এবং পরে আবার তা ফিরিয়ে দেন। অথচ জমি ও ভবনের প্রকৃত মালিকরা ওই ক্ষমতা দিয়ে কোনো আম-মোক্তারনামা তাদের দেননি।

লাল সালু , কাঁদো নদী কাঁদোর মত উপন্যাসের লেখক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯৫১ ও ৬০ এর দশকে পাকিস্তান সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত প্যারিসে পাকিস্তান দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি প্যারিসে ইউনেস্কোর প্রোগ্রাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। ওই বছর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষে প্রচার চালান।

আর নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল জিয়াউল ইসলাম এক সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-বিসিবি সভাপতি ছিলেন। ওই সময়েই বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে স্কুল ক্রিকেট চালু হয়।

কামাল জিয়াউল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা ইসলাম নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান। তাদের ছেলে রায়হান কামাল ও রাহাত কামালও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য।