nirbhiknewsআবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দীর্ঘপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র নতুন ধরনের বলে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার সকালে পিয়ংগান প্রদেশের কুসং শহর থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। পরীক্ষামূলকভাবে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্র জাপান সাগরে গিয়ে পড়ে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি এক হাজার ২৪৫ মাইল উচ্চতায় পৌঁছে যায়। এটি নতুন ধরনের কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে। তবে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার বিষয়ে কিছুই জানায়নি উত্তর কোরিয়া।  তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটির ধরন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এটি আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) নয়। আইসিবিএম কোরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই ধরনের আইসিবিএম বানাতে কাজ করছে উত্তর কোরিয়া। তবে ওই দুই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এখনো পরীক্ষার জন্য ছোড়া হয়নি।

এদিকে, কয়েক দিন হলো ক্ষমতায় বসেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জাই-ইন। তাঁর ক্ষমতায় বসার পর পরই এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি করবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।  এর আগে গত মাসে দক্ষিণ পিয়ংইয়ংয়ের একটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। তবে সেটি কোরিয়ার সীমান্ত পার করার আগেই আকাশে বিস্ফোরিত হয়।

এ ছাড়া জাপান সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। মার্চে জাপান সাগরের দিকে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে তিনটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পড়ে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে পিয়ংগান প্রদেশে অবস্থিত বাঙ্গিয়ন বিমানঘাঁটি থেকে জাপান সাগরের দিকে পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সেটিই ছিল দেশটির প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন জানিয়েছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছেন তাঁরা। গত বছর বেশ কয়েকবার পারমাণবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটায় উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জেরে ২০০৬ সাল থেকেই উত্তর কোরিয়ার ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ।