Razuk_Uttaraরাজধানীতে যাঁদের প্লট ও ফ্ল্যাট রয়েছে, তাঁরা রাজউক প্রকল্পে আবেদন করতে পারবেন না—এটা ছিল রাজউকের প্রকল্প নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু এবার তা উঠে যাচ্ছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) উত্তরায় আরও আড়াই হাজার ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেবে, যেখানে আগে থেকেই প্লট বা ফ্ল্যাট থাকলেও যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। এর ফলে স্বল্প আয়ের মানুষকে উত্তরায় ফ্ল্যাট দেওয়ার জন্য ২০১১ সালে যে নীতিমালা করা হয়েছিল, তা পাল্টে যাচ্ছে। বিষয়টির মাধ্যমে রাজউক সরাসরি ফ্ল্যাট ব্যবসায় জড়িত হয়ে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন উঠেছে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে তিন বছর আগে চার হাজার লোককে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিন বছরে নির্মাণকাজের অগ্রগতি না হওয়ায় অনেকে জামানত ও কিস্তির টাকা তুলে নেন। যার জন্য ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য নীতিমালা পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
অতীতে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। নতুন প্রকল্পে ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের এসব ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ধরা হবে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি ফ্ল্যাটের দাম পড়বে ৮০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৮৫ লাখ। এটা সাধারণ গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কার কাছে বিক্রি হচ্ছে, তা বড় কথা নয়। ফ্ল্যাট বিক্রি হওয়া নিয়ে কথা।
যোগাযোগ করা হলে রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও সদস্য (উন্নয়ন) আবদুর রহমান বলেন, উত্তরায় আড়াই হাজার ফ্ল্যাটের জন্য রাজউকের প্রসপেক্টাস তৈরি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে আবেদনপত্র আহ্বান করে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যাঁদের আগে থেকেই প্লট-ফ্ল্যাট আছে, তাঁদেরও অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, পুরোনো বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই টাকা তুলে নিয়েছেন। এখন ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। তবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আগে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হবে।
‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ বিষয়ে রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানালে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কার কাছে বিক্রি হচ্ছে তা বড় কথা নয়, আমাদের তো ফ্ল্যাট বিক্রি করতে হবে, বিক্রি করা নিয়ে কথা।’
রাজউকের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, রাজউকের প্রধান কাজ রাজধানীর উন্নয়ন করা। কিন্তু রাজউক রাজধানীর আবাসন সমস্যার সমাধান করতে প্লট ও ফ্ল্যাট প্রকল্পে জড়িত হয়। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ যুক্ত করে নীতিমালা তৈরি হতো। যার জন্য রাজউকের প্লট ব্যবসাকে ‘উন্নয়নকাজ’ হিসেবেই ধরে নেওয়া হতো। রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়), পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্প, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এবং উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের নীতিমালায় এ বিষয়টি যুক্ত ছিল যে রাজধানীতে প্লট-ফ্ল্যাট মালিকেরা এসব প্রকল্পে অংশ নিতে পারবেন না। এ বিষয়ক পরিচিতিতেও (প্রসপেক্টাস) সতর্কতামূলকভাবে উল্লেখ ছিল যে, ঢাকা শহরে প্লট-ফ্ল্যাট থাকার পরও কেউ আবেদন করলে এবং প্লট পেয়ে পরে ধরা পড়লে প্লট তো বটেই, জামানতও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘আসলে আবাসন সমস্যা সমাধান ছাড়াও ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়ানোও রাজউকের উদ্দেশ্য, তাই এবার সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব এসেছে।’
প্রতি বর্গফুট ৪ হাজার ৮০০ হিসাবে এই প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাটের দাম হবে ৭৯ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে তিন লাখ টাকার গাড়ি পার্কিং ও সেবা খাতের (বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস) দুই লাখ টাকা। এ কারণে এসব ফ্ল্যাট সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে থাকবে বলেও আপত্তি জানান উল্লিখিত কর্মকর্তারা। অথচ ২০১১ সালে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পকে ‘স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রকল্প’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
রাজউক জানিয়েছে, যাঁরা আগে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন, তাঁদের ২০১৬ সালের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। নতুন আড়াই হাজার ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ২০১৮ সালের মধ্যে।