x002.jpg.pagespeed.ic.zMB9NaL5Slআপনার স্ত্রী আপনার সন্তানকে ঠিকমত দুগ্ধপান করায় নি বা যত্ন নেয়নি অথবা সময় মত রান্না করে আপনার সামনে খাদ্য উপস্থিত করেনি কিংবা আপনার জামা-কাপড় ধৌত করে দেয়নি বলে তার কাছে কৈফিয়ত দাবী করার অধিকার আপনার নাই । সন্তান উৎপাদন ও জৈবিক চাহিদা পূরণ ছাড়া স্ত্রী দিয়ে অন্য কাজ করাতে হলে স্ত্রী যদি তার বিনিময়ে স্বামীর কাছে আর্থিক পারিশ্রমিক দাবী করে তবে স্বামী তা পরিশোধ করতে বাধ্য । যে যদি কাজ করতে না চায় তবে স্বামীর জোর করে কাজ করানোর কোন অধিকার নাই । স্ত্রী যদি স্বামীর সংসারে থেকে ব্যবসা করে হাজার কোটি টাকারও মালিক হয় তবুও আমৃত্যু স্বামী স্ত্রীর খোরপোষ দিতে বাধ্য ।
…..
শুধুমাত্র ইসলাম ধর্মে বিবাহ হচ্ছে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি এবং অন্যান্য সকল ধর্মে বিবাহ কেবল প্রথা । দিকে দিকে যখন নারীর অধিকার ভূলুন্ঠিত ছিলো তখন ইসলাম নারীকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে । মূর্খতার যুগে যখন কন্যা সন্তানের জন্মকে অভিশাপ মনে করা হত এবং কন্যা সন্তানকে জীবন্ত মাটিচাপা দেয়া হত তখন ইসলাম কন্যা সন্তানকে অভিভাবকের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে । মানবতার ‍মুক্তির দুত নবী মোহাম্মদ সা. স্বয়ং বলেছেন, তোমরা কোন কন্যার পিতাকে গালি দিও না কেননা আমি নিজেই কন্যা সন্তানের জনক ।
…..
নারী প্রগতির নামে আজ ইসলামকে দোষারোপ করা হচ্ছে । বলা হচ্ছে, ইসলাম সেকেঁলে এবং নারী স্বাধীনতার বিপক্ষে । যারা ইসলামকে নারী প্রগতির বিরুদ্ধে বলছে তারা মূর্খতার নরক রাজ্যে বাস করছে এবং নারীদের দিয়ে যারা এসব বলাচ্ছে তারা নারীদের স্বর্বস্ব লুটেপুটে খাওয়ার ফন্দি এঁটেছে । এটা নারীরা কতটুকু উপলব্ধি করতে পারছে জানিনা তবে যখন সম্বল-সম্পদ হারা হবে তখন বোধহয় ঠিকই বুঝবে । ইসলামপূর্ব যুগের সাথে ইসলাম পরবর্তী যুগের নারীদের সামাজিক অবস্থার তুলনা করে সংক্ষেপে বলা চলে, ইসলাম পরবর্তী যুগে নারীরা অন্ধকার রাজ্য আলোর রাজ্যে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে । পৃথিবীর অন্য কোন ধর্ম নয় বরং এ সুযোগ শুধু ইসলাম-ই নারীকে দিয়েছে ।
….
আপনার হয়ত জানা নাই বর্তমান ইংল্যান্ডের মত আধুনিক রাষ্ট্রে স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর চুক্তি করার অধিকার নাই । সেখানে স্বামী-স্ত্রীকে একক সত্ত্বা বিবেচনা করা হয় । স্বাক্ষী প্রদানের যোগ্যতার কথা যদি বলেন সেখানেও ইসলাম সর্বপ্রথম নারীকে স্বাক্ষ্য প্রদানের সুযোগ দিয়েছে । এই আধুনিক বিশ্বেও ধর্ম স্বীকৃতভাবে ইসলাম ব্যতীত অন্যকোন ধর্ম গ্রন্থে যেখানে পিতা-স্বামীর সম্পত্তিতে কন্যা-স্ত্রীর অংশ উল্লেখ নাই বরং তাদেরকে বঞ্চিত রাখা হয় সেখানে ইসলাম নারীদেরকে শুধু সম্পত্তি প্রদানের কথা ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং নির্দিষ্ট অংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে । সম্মান ও অধিকারের দিক থেকে ইসলামে নারীকে পিছিয়ে রাখা হয়নি বরং কোথাও সমতা আবার কোথাও অগ্রগামী করা হয়েছে ।

পুরুষের পায়ের নিচে চটি জুতা কিংবা মাটি ছাড়া আর কিছু আছে বলে কোথাও ঘোষিত নেই অথচ নারী তথা মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাতের ঘোষণা এসেছে । এর চেয়ে আর কি সম্মান চাই ? আছে কোন সম্মান যারা তুলনা এ সম্মানের সাথে চলে । সন্তান কার সাথে সদাচারণ করবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনবার মায়ের কথার পরে একবার মাত্র বাবার কথা এসেছে । অর্থ্যাৎ মা যদি হয় স্বর্ণ্য, রৌপ্য ও ব্রঞ্জ পদক প্রাপ্ত তবে সেখানে বাবার জন্য শুধু স্বান্তনা পুরস্কার ।
…..
যদি আপত্তি তুলে জিজ্ঞাসা করা হয়, ইসলামে নারীকে যে অধিকার দিয়েছে সমাজে তার বাস্তবায়ন নেই কেন ? তবে বলতে হবে এটা মানুষ সৃষ্ট পদ্ধতির ত্রুটি । ইসলাম সর্বদা নারীর কল্যানেই কাজ করেছে । তাদের অধিকার সংরক্ষণ করেছে । চরম অবমাননা ও লজ্জা থেকে রক্ষা করেছে । একটি কন্যা সন্তানের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাকে বিভিন্ন স্তরে স্তরে সম্মানের চূড়ান্ত সীমায় আসীন করেছে । তারপরেও সমাজে যেটুকু অসমতা আছে তার জন্য পুরুষ যতোটা দায়ী তার চেয়ে নারী কম দায়ী নয় । ইসলাম নারীকে যখন রাণীর সিংহাসনে বসানোর ঘোষণা দিয়েছে নারীদের কেউ কেউ তখন ভোগ্যা হওয়াকে বেছে নিয়েছে । রূপ এবং রক্তের তেজস্বীতাকে বিজ্ঞাপন করে সে সস্তা হাততালি কুড়াতে গিয়ে হারিয়ে বসেছে তার সম্ভ্রম, সাথে সম্মান-মর্যাদা । পুরুষের দায় যে কম সেকথা বলার সুযোগ নেই । কেননা পুরুষের অতি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাও নারীকে যন্ত্রনা দিয়েছে খুব । তবে নারী-পুরুষ উভয়ই যদি ইসলামের মূল শিক্ষা আক্রে ধরতো তবে নারীর যেমন আজকের দুরাবস্থা থাকতো না তেমনি পুরুষদেরকেও ইতিহাস কাপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ পেত না ।
….
রাজু আহমেদ । কলামিষ্ট ।
fb.com/rajucolumnist/