nibhiknewsবাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকের স্বার্থ সুরক্ষায় যৌথ দর-কষাকষির অভিন্ন অধিকার চালু করতে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোতে (ইপিজেড) এ-সংক্রান্ত খসড়া আইন সংশোধনে বাড়তি সময় পেল বাংলাদেশ। তবে ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর ব্যাপারে আগামী দু-তিন সপ্তাহে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারেরা।

বাংলাদেশের পোশাক খাত বিষয়ে বহুপক্ষীয় কমপ্যাক্টের তৃতীয় পর্যালোচনা সভায় গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) শ্রম অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়ে বাংলাদেশ নিয়ে বিশেষ অনুচ্ছেদের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। গত জুনে আইএলও সম্মেলনে ওই অনুচ্ছেদ যুক্ত হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোটের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা অব্যাহত রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

গতকালের আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে, আশা করি জিএসপি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’
কমপ্যাক্টের গতকালের একাধিক কর্ম অধিবেশন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় ঘুরেফিরে শ্রমিক অধিকার, বিশেষ করে আইএলওর অনুচ্ছেদটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ প্রসঙ্গটি ছাড়া কারখানার কাঠামোগত সংস্কারবিষয়ক ইউরোপীয় উদ্যোগ অ্যাকর্ড এবং শ্রমিক নিরাপত্তাবিষয়ক মার্কিন উদ্যোগ অ্যালায়েন্সের মেয়াদ পূর্তি শেষে নতুন করে যুক্ত রাখার প্রসঙ্গটি ঘুরেফিরে এসেছে।

২০১৬ সালের জুনে যুক্ত হওয়া আইএলওর বিশেষ ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সংগঠিত হওয়া এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপের ঘাটতি ও ব্যর্থতা অত্যন্ত উদ্বেগের। এ ক্ষেত্রে শ্রম আইন, ২০১৩তে সংশোধনী আনা, ইপিজেড আইনে সংগঠিত হওয়ার অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়নবিরোধী বৈষম্যের তদন্ত করা এবং ইউনিয়নের নিবন্ধন স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে করার মতো চারটি প্রসঙ্গ ওই অনুচ্ছেদে এসেছে। এসব কারণেই বাংলাদেশের জিএসপি-সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি যাচাই করে দেখতে চাইছে ইইউ। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৫৫ শতাংশ যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশগুলোতে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জোটভুক্ত দেশে বাংলাদেশের জিএসপি নিয়ে হুমকি দিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইইউর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেডেলিন তুইনিনগা বলেন, ‘বিষয়টি আমি অস্বীকার করছি না। আমাদের আইন ও নিয়মগুলো আইএলওর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইএলও কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুললে আমাদের কিছু করার থাকে না। তবে আমরা আশা করব, আগামী দু-তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন সূচিত হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মার্ক লিন্সকট বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের অবদান আছে। আমরা চাই এই শিল্পের পরিবর্তনের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভবিষ্যতেও অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স যুক্ত থাকবে।’
তবে কমপ্যাক্টের প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন দিতে বাংলাদেশ যে সময় পেয়েছে তা শর্তযুক্ত। অর্থাৎ, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে জুনে তিন সপ্তাহের জন্য আইএলও সম্মেলন চলাকালে বাংলাদেশের অংশীদারেরা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি দেখতে চান। তাই এই সময়ের আগে উন্নতি না হলে জুলাইতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা হবে। এমনকি জিএসপি অব্যাহত রাখা নিয়ে তখন তদন্ত দলও গঠন করা হতে পারে।

২০১৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের শিল্প ইতিহাসের সবচেয়ে বিয়োগান্ত ঘটনা রানা প্লাজা ধসের পর পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশের উন্নতি ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে চারপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে জেনেভায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং আইএলওর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে যোগ দিয়ে ‘স্টেইং এনগেইজড অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট উইথ বাংলাদেশ’ নামের উদ্যোগের ঘোষণা দেন। সংক্ষেপে এটি কমপ্যাক্ট নামে পরিচিত। পরে এই উদ্যোগে যুক্ত হয় কানাডা।