Nirbhiknewsইউরোপিয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি ও অন্যান্য জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এনএএ) মানদণ্ড অনুসরণ করছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত পাইলট ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার অন্যতম কারণও এটি। তবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব ও একই সঙ্গে নতুন বৈমানিক, প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ান তৈরির জন্য পরীক্ষা পদ্ধতিও জটিল বলে মনে করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি শোয়েব চৌধুরী।

বাংলাদেশের তথা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত পাইলট ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।

শোয়েব চৌধুরী বলেন, এয়ারলাইন্সের বৈমানিক ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে বেবিচকের অনুমোদন ও সনদ লাগে, যা পাওয়া সময়সাপেক্ষ। এখানকার পরীক্ষা পদ্ধতি কঠিন থেকে কঠিনতর করার প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয়। এতে বেশি কাজের লোক এবং ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশন্স) উইং কমান্ডার চৌধুরী এম জিয়াউল কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, এতদিন আমরা বৈমানিক ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারদের পরীক্ষা ম্যনুয়ালি নেয়া হতো। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের সমীক্ষা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইউরোপীয়ান স্ট্যান্ডার্ড ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বৈমানিক ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। পাশাপাশি তাদের আরও বেশি কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। আমরা চার মাসের মধ্যে বাংলাদেশেও এমন ই-এক্সাম চালুর চেষ্টা করে যাচ্ছি। এর ফলে বেবিচকের নিজস্ব প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রয়োজন থাকবে না।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সিএএর পক্ষ থেকে বৈমানিক (এফসিএল) ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারদের (এএমএল) লাইসেন্সিং পরীক্ষা পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার আগ্রহ প্রকাশ করে এরই মধ্যে বেবিচককে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সিএএর আন্তর্জাতিক শাখা সিএএআই প্রস্তাবটি পাঠিয়েছে। সিএএআইয়ের ই-এক্সামে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বৈমানিক ও এয়ারক্রাফট ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুযোগ বাড়বে।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আকাশ পরিবহনে ২৩ হাজার বৈমানিক ও উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে ৩০ হাজার জনবল প্রয়োজন হয়। আগামী ২০ বছরে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে মোট ২৫ হাজার নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন হবে। ফলে এ খাতে আরও ৪ লাখ ৮০ হাজার টেকনিশিয়ান ও সাড়ে তিন লাখ বৈমানিকের প্রয়োজন হবে।