Road+accidentবেনাপোল থেকে এনামুল হক: কিশোর বয়সে বেনাপোলের কথা অনেক শুনেছি। শুনতে শুনতে বেনাপোল ছিল আমার স্বপ্নের রাজ্যে। সেই বেনাপোলে আজ আসতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করছি। আবেগ আপ্লুত কন্ঠে এই অভিব্যাক্তি প্রকাশ করেন নবাগত যশোর জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আওয়াল। মঙ্গলবার সকালে বেনাপোল পৌরসভা মিলনায়াতনে’আরবান স্যানেটেশন:সিটি ওয়াইড ইনক্লসিভ স্যানিটেশন এনগেইজমেন্ট প্রকল্প’র উদ্ভোধনী অনুষ্টানে বেনাপোল পৌর সভা ও এসএনভির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের সভাপতিত্বে , প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেন,আমাদের সাধ অনেক কিন্তু সামর্থ্য সীমিত। এরপরও আজ আমরা নিজের পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আজ আমরা এশিয়ার বৃহত্তম পদ্মাসেতু বিশ্ব ব্যাংক বা অন্য কারও সাহায্য ছাড়াই নির্মান করছি,বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উপগ্রহ মহাশূন্যে পাঠিয়েছি। আর এটা সম্ভব হচ্ছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢতার কারনে। তিনি বলেন আজ মানব বর্জ্যও ফেলনা না। এটাকেও আমাদের সম্পদে পরিনত করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি এই কর্মশালা এই মানব বর্জ্য সম্পদে পরিনত করার জন্য একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে। মানব বর্জ থেকে সার ও বায়োগ্যাস তৈরী হবে। আমি আজ বেনাপোল এসে মুগ্ধ। বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের প্রশংসা করে বলেন আমি পৌরসভায় ঢুকে একটি বইয়ের লাইব্রেরী দেখলাম সেখানে অনেক ধরনের বই রয়েছে। তখন একজন পৌর কর্মচারীকে বললাম এ বই কে পড়ে সে বলল মেয়র সাহেব পড়েন। এ বই ছাড়া ও মেয়র সাহেবের বাসাই প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বিভিন্ন লেখকের বই আছে। এ কথা শুনে আমি অবাক হলাম যে, আমাদের জনপ্রতিনিধিরা বই ও পড়েন। উপস্থিত সকলের জন্য তিনি গাছ লাগাতে বলেন। তিনি বলেন আজ তালগাছ খেজুরগাছ বিলুপ্তির কারনে আমাদের বর্জপাতে মানুষ বেশী মারা যাচ্ছে। কার্বনডাই অক্সাইড বেড়ে যাচ্ছে। আমরা গাছ থেকে অক্সিজেন গ্রহন করি এবং গাছ আমাদের থেকে কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহন করে। তাই গাছ কেটে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২লাখ গাছ লাগানোর ঘোষনা দেন। আমাদের প্রাপ্তি জীবন সব সময় এক ভাবে যাবে না। এক সময় পরিবর্তন হবে। তাই সুস্থ ভাবে বাঁচতে হলে এবং সম্পদের সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করতে হলে আমাদের এই প্রকল্পের হাতে হাত রেখে সেপটি ট্র্যং তৈরী করে সেখান থেকে মানুষের বর্জ নিয়ে সার ও বায়োগ্যাস তৈরী করে কাজে লাগান।

অনুষ্টানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন,স্যানিটেশন ব্যাবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে অনেকদুূর এগিয়ে গেছে। দেশের শতকরা ৯৮ভাগ মানুষ এখন পাকা,অর্ধপাকা ও কাচা পায়খানা ব্যাবহার করছে। আমাদের সম্পদের মালিক হলে হবে না। আমাদের নিজেদের সম্পদে তৈরী হতে হবে। জীবনে জন্য ছোট হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম আবার বড় হচ্ছি মৃত্যুর জন্য। ত্ইা আমাদের যতদিন বেঁচে থাকতে হবে ততদিন স্বাস্থ্য শরীর সব ঠিক রাখতে হবে। এর জন্য হতে হবে সচেতন। বেনাপোল পৌর সভা দির্ঘদিন ধরে স্যানিটেশন সহ চিকিৎসা ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। আজ আবার আরো উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে আমাদের পৌরসভার বর্জ পয় নিস্কাশন ব্যবস্থার ও সঠিক ব্যাবহার করতে আর একটি ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। এবং এটা যদি আমরা আরবান স্যানিটেশন সিটি ওয়াইড ইনক্লুসিভ এনগেইজমেন্ট প্রকল্পর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারি তাহলে আমাদের পরিবেশ সুরক্ষা হবে ও অনেক আর্থিক দিক ও সাশ্রয় হবে। কারন এর থেকে সার তৈরী বায়ো গ্যাস তৈরী করা সম্ভব।

অনুষ্টিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি,কাষ্টম ডেপুটি কমিশনার জাকির হোসেন,জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যশোর নির্বাহি প্রকৌশলী মঞ্জুর মোশারফ,এসএনভি-নেদারল্যান্ড ডেভোলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের টিম লেডার রাজিভ মুনানকামী ও প্রেজেন্টার সহিদুল ইসলাম,উপজেলা নির্বাহি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ।