ATRAI FISH NEWSPICরওশন আরা পারভীন শিলা,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের গজমতখালী জলাশয়টি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর দখলে। দীর্ঘদিন জলাশয়টি প্রভাবশালীর দখলে থাকায় স্থাণীয় মৎসজীবি এবং কৃষকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জলাশয়টি উন্মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, স্থানীয় ইউপি মেম্বার গোলাম সারোয়ার। গত ২ আগষ্ট এলাকাবাসীর পক্ষে ৩৫০জন স্বাক্ষরিত এ অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে গজমতখালী জলাশয়টি ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত সম্পত্তি এবং জলাশয়টির শ্রেনী খাল। জলাশয়টির উপর স্থাণীয় প্রায় দুই শতাধিক মৎসজীবি এবং দেড় শতাধিক কৃষক নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জলাশয়টি দখল করার চেষ্টা করে আসছেন। এতে মৎসজীবিরা সেখানে মাছ শিকার এবং কৃষকরা কৃষি কাজের জন্য জলাশয় থেকে জমিতে পানি সেচ দিতে পারছেন না। মৎসজীবিরা জলাশয় থেকে মাছ শিকার করতে না পারায় অনেকটা কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। সেই সাথে কৃষকরা তাদের জমি থেকে উৎপাদিত ফসলে পানি সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ফলে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এতে করে ওই জলাশয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্খা করা হচ্ছে।

গজমতখালী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছেফাতুল্লাহ বলেন, আমরা কৃষকদের কখনোই জলাশয় থেকে পানি উত্তলোন কাজে বাধা দেয়নি। বরং তারাই জলাশয় থেকে অংশ দাবী করে বসে এবং দখল করার জন্য বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলাশয়ের অংশ না দেয়ায় গত এক সপ্তাহ আগে কাজল, ইয়াসিন, মাহাবুর ও কামাল সহ কয়েকজন মৎস্যজীবিদের মারপিট করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগও দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জলাশয়ে কচুরি পানা দিয়ে কাঠা দেয়ার কারণ হচ্ছে, বন্যায় ডুবে গেলে মাছ যাতে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে। সারা বছর সেখান থেকে আমরা মাছ শিকার করতে পারি।

গজমতখালী পাহাড়পুর গ্রামের ইয়াসিন আলী খানের ছেলে কালাম জানান, সরকার গজমতখালী জলাশয় সকলের জন্য উন্মূক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবিরা উন্মূক্ত জলাশয়কে বিভিন্নভাবে কচুরী পানা দিয়ে সাধারন জনগণের গোসল করা ও জলাশয় থেকে পানি সেচ দেয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

অভিযোগকারী স্থানীয় ইউপি মেম্বার গোলাম সারোয়ার বলেন, এখানে আমরা কেউ দখল করার জন্য আবেদন করিনি। বরং জলাশয়টি মুক্ত রাখার জন্যই আবেদন করা হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। বিষয়টি উপর মহলকে দেখার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোখলেছুর রহমান বলেন, তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো: আনোয়ারুজ্জামান বলেন, জলাশয়টি মুক্ত আছে। সেখানে মৎস্যজীবিরা মাছ শিকার করে সারা বছরই জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া কৃষক ওই জলাশয় থেকে জমিতে সেচ কাজে পানি ব্যবহার করেন। যারা অভিযোগ করেছেন বরং তারাই উল্টো বাঁশের বেড়া (বানা) দিয়ে দখল করার চেষ্টা করছেন। আমরা শিগগিরই ঘটনাস্থল তদন্ত করে দেখব।