http://nirbhiknews.com/wp-content/uploads/2018/06/rohinga-miyanmar.jpgবর্বর নির্যাতনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বলপূর্বক রাখাইন থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সায় দিয়ে বাংলাদেশ তার লিখিত মতামত জমা দিয়েছে। ১১ই জুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দ্য হেগের ওই আদালতে ঢাকার মতামত জমা পড়ে। তবে মতামত জমা দেয়ার ক্ষেত্রে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে কানাডা। তারা পূর্ব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত জমা দেয়নি। ঢাকার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গত সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রেজিস্ট্রার পিটার লুইসের কাছে অভিমত জমা দেন দ্য হেগে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মাদ বেলাল। সেখানে কেবল তদন্তের বিষয়ে আইসিসির উদ্যোগে সায় দেয়া হয়েছে।

আইসিসি রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত চাইলে পরবর্তী সময়ে তাও বাংলাদেশ জমা দেবে বলে জানানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সরকারের একজন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক অভিমত দিয়েছে।

পরবর্তী সময়ে যদি কোর্ট ফ্যাক্টস চায়, তবে সেটিও সরবরাহ করতে আমরা প্রস্তুত। এই বিষয়ের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ গোপনীয়ভাবে অভিমত দিয়েছে বলেও তিনি জানান। গত ৯ই এপ্রিল আইসিসিতে রোম সনদের প্রসঙ্গ টেনে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তদন্তের জন্য আবেদন করা হয়। ১১ই এপ্রিল প্রাক-শুনানি আদালতের সভাপতি তিন সদস্যের আদালতকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেন। কারণ, আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতাও বেনসুদা তদন্তের আবেদন জানালেও এ নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে।

বাংলাদেশ রোম সনদে সই করলেও মিয়ানমার এখনো তা করেনি। ফলে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি তদন্তের এখতিয়ার আইসিসির আছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এদিকে গত ৭ই মে আইসিসির প্রাক-বিচারিক শুনানিতে তিন সদস্যের আদালত বাংলাদেশের কাছে তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। আদালত ১১ই জুনের মধ্যে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে এ বিষয়ে বাংলাদেশকে পর্যবেক্ষণ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ ছাড়া এখন পর্যন্ত তিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আইসিসির অনুরোধে সাড়া দিয়ে তাদের অভিমত দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- অ্যামিকাস কিউরি ডা. মোহাম্মদ হাদি জাকের হোসেইন ও ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টস। এ ছাড়া ৪০০ জন রোহিঙ্গার পক্ষে একটি আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা গ্লোবাল রাইটস কমপ্লায়েন্সও অভিমত দিয়েছে।

২০শে জুন শুনানি: এদিকে নেদারল্যান্ডসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে- আগামী ২০শে জুন আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার এ বিষয়ে শুনানি হবে। রুদ্ধদ্বার ওই শুনানিতে কেবল আইসিসির প্রসিকিউটর ফাতাও বেনসুদা উপস্থিত থাকবেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়ে আসছেন। এ দাবির ধারাবাহিকতায় প্রসিকিউটর বেনসুদা এই ইস্যুটি আইসিসিতে নিয়ে আসেন। সম্প্রতি গণহত্যা সংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত আদামা দিয়েং বাংলাদেশ সফরের সময়ে মন্তব্য করেন ‘মিয়ানমারে আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের শুধু তাদের পরিচয়ের জন্য হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জীবিত পুড়িয়ে মারা ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।’ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অত্যাচারে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এরমধ্যে গত ২৫শে আগস্টের পরে যারা পালিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যে ৩০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৩৬ হাজার অনাথ এবং বাবা-মা নিখোঁজ- এমন প্রায় আট হাজার শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত বাংলাদেশে আসছেন: ওদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্জেনার মঙ্গলবার মিয়ানমার গেছেন। গত এপ্রিলে নতুন ওই দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই তার প্রথম মিয়ানমার সফর। মিয়ানমার সফর শেষে তার বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরের সময়ক্ষণ ঠিক হয়নি।