http://nirbhiknews.com/wp-content/uploads/2018/06/dhaka-stock-exchange1.jpgপুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীরা ভীষণ হতাশ। ২০১৬ সালের শেষ দিক থেকে বাজার তেজী হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লেনদেনে বেশ লাভ করেছে বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু চলতি বছর শুরু থেকেই বাজার নিম্নমুখী। এর মধ্যে রক্তক্ষরণ হয়েছে মে মাসে। ২৬ এপ্রিল থেকে টানা পতনে ১৬ মাস আগের অবস্থানে চলে গেছে সূচক।

গত বছর যেখানে সর্বোচ্চ লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকায় পৌঁছে সেটি এখন চারশ কোটির ঘরে নেমেছে। কোনো কোনো দিন পাঁচশ কোটির ঘরে উঠলেও আবার তা নেমে যাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের টানা দুই মেয়াদে দেশের অর্থনীতির আকার বিকশিত হয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজার এক হতাশার নাম। বিশেষ করে ২০১০ সালের ধসের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাজার। এর মধ্যে ২০১৭ ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ভোটের বছরে পতন আবার সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অবশ্য এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নীতি সহায়তা রাখার ঘোষণা রেখেছেন। বিশেষ করে ব্যাংকের করপোরেট করহার ৪২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭.৫ শতাংশ করার সংবাদ এসেছে গণমাধ্যমে। এটি বাজারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার বাজেট পাসের পর বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসার ঘোষণাও দিয়েছেন মুহিত।

বাজার পতনের নেপথ্যে তারল্য সংকটের বিষয়টি আলোচনায় আসছে সবার আগে। আর আছে আস্থার সংকট। দাম উঠা নামা বাজারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলেও যখন শেয়ারের দাম ক্রমশই নিম্নমুখী তখন দাম আরও পড়বে না, এমন বিশ্বাস রাখতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে যারা ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ঋণ নিয়ে শেয়ার কেনন, তাদের পক্ষে অপেক্ষা করা কঠিন।

এসব কারণে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে শেয়ার কিনতে চাইছেন না। বরং শেয়ার বিক্রি করে হাত গুটিয়ে বসে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ।

গত মে মাসে লেনদেনের ২১ দিনের মধ্যে ১৮ দিনেই বিক্রয় চাপে সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়। এই মাসে ঢাকার পুঁজিবাজার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স কমেছে ৩৫৫ পয়েন্ট যা প্রায় ৬ শতাংশ। এর আগে এপ্রিলের টানা পতনে ১৪ কার্যদিবসে সূচক পড়ে প্রায় ২৪৫ পয়েন্ট।

মে মাসে মাত্র তিন কার্যদিবসে সূচক বেড়েছিল। এই মাসেই বাজার মূলধন কমেছে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা।

একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বললে জানা যায়, বাজারে টানা পতনের কারণে নতুন পুরোনো সব বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে এখন দিশেহারা। বাজার নিয়ে তারা এখন বেশ চিন্তিত।

বাজার সম্পর্কে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর সাবেক পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতার কারণে প্রতিদিন সূচকের পতন হচ্ছে। শেয়ার মার্কেটে কিছু ভালো থাকবে কিছু মন্দ থাকবে-সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্ধভাবে বিনিয়োগ করলে চলবে না। লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার আগ্রহ বেশি থাকে। মাঝামাঝি সময়ে মুনাফায় থাকা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। যার ফলে বাজার সেল প্রেসার বেড়ে যায়। পরিণতিতে সূচকের পতন ঘটে।’

বাজারের পতন সম্পর্কে রকিবুর আরও বলেন, ‘বর্তমান বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের অভাব রয়েছে। এ বাজারে বেশিরভাগই ডে ট্রেডারের ভূমিকা রাখছে। আর এটাই বাজার স্থিতিশীলতার অন্তরায়।’