Nirbhiknewsঘোষণার পর থেকে অব্যাহত সমালোচনার মুখে বাংলাদেশের সেরা সুন্দরীর মুকুট হারালেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল; তার পরিবর্তে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চীনে যাচ্ছেন পুরান ঢাকার মেয়ে জেসিয়া ইসলাম।

বুধবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এভ্রিলের খেতাব বাতিলের ঘোষণা দিয়ে প্রথম রানার আপ জেসিয়ার মাথায় মুকুট পরানো হলো। তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নতুন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া বলেছেন, “অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। বিচারক, গণমাধ্যম কর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

এর আগে প্রতিযোগিতা নিয়ে নানা বিতর্কের জবাব দিতে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ আয়োজকদের এই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিচারক বিবি রাসেল বলেন, “ভুল সবারই হয়। আশা করি, বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

বিচারকদের মধ্যে শম্পা রেজা ও চঞ্চল মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। বাকি তিনজন জুয়েল আইচ, রুবাবা দৌলা ও সোনিয়া বশির কবির ছিলেন অনুপস্থিত।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চট্টগ্রামের মেয়ে এভ্রিলের নাম ঘোষণার পর থেকে বিতর্ক চলছিল।

বিচারকদের মতামত উপেক্ষা করে আয়োজক সংস্থা অন্তর শো বিজ এভ্রিলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন বলে প্রথমে অভিযোগ ওঠে। তারপর বিয়ের খবর লুকিয়ে এভ্রিলের এই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার খবরও আসে গণমাধ্যমে।

সংবাদ সম্মেলনে বিচারকদের উপস্থিতিতে আয়োজকরা ‘ভুল বোঝাবুঝি’র অবসান ঘটাতে ফলাফলগুলো পুনরায় প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, বিচারকদের দেওয়া নাম্বারের মোট যোগফল অনুযায়ী প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ নাম্বার ৫১ পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম নাম্বার যথাক্রমে ৪৮ ও ৪৭ পেয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় রানার আপ নির্বাচিত হন জেসিয়া ইসলাম ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি।

বিচারের ফলাফল ও এভ্রিলের বিয়ে বিতর্ক নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের জবাব আসে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

‘মিস ওয়ার্ল্ড’ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিবাহিত কিংবা ডিভোর্সি হওয়ায় এভ্রিলের ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু তিনি নিজের বিয়ের খবর গোপন রেখে তিনি অসততার পরিচয় দিয়েছেন। সে কারণে তাকে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

ওই বার্তা পাওয়ার পর অন্তর শো বিজ ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ এভ্রিলের খেতাব বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদ সম্মেলনের পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানান, দ্বিতীয় রানার আপ জান্নাতুল সুমাইয়ার অনুপস্থিতি জনিত কারণে প্রথম রানার আপ জেসিয়া ইসলামের পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সেরা দশের ফাতেমা তুজ জাহরা’র মধ্যে যে কোনো একজনকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হবে। গণমাধ্যমের সামনেই তাদের পুনরায় বিচার করবেন বিচারকরা।

তবে, গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে বাক বিতণ্ডার ভেতর প্রতিযোগিতার বিচারক বিবি রাসেল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণা করেন।

জেসিয়া ইসলামের নাম ঘোষণার পরপরই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন মুকুট হারানো এভ্রিল। এসময় এভ্রিল বলেন, “আমি চলে যাচ্ছি। যে বাল্যবিবাহের কারণে আমাকে বাদ পড়তে হল। সেই বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আমি লড়ে যাবো।”

এভ্রিল আরও বলেন, “আমি এই মুহূর্ত থেকে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ বয়কট করছি। তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক এই মুহূর্ত থেকে নেই।”

এভ্রিলের মুকুট হারানো প্রসঙ্গে জেসিয়া বলেন, “এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমার কিছু বলার নেই। আশা করছি, তার নেক্সট জার্নিটা অনেক ভালো হবে।”

এভ্রিলও ফেইসবুক লাইভে এসে জেসিয়াকে শুভকামনা জানিয়ে বলেছেন, “আশা করছি জেসিয়া ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। জেসিয়ার জন্য শুভকামনা রইল।”

বিচারকদের বিচারে নতুন ফলাফলে প্রথম রানারআপ হয়েছেন ফাতেমা তুজ জাহরা, যৌথভাবে দ্বিতীয় রানারআপ হন রুকাইয়া জাহান চমক ও সঞ্চিতা রানী দত্ত। থার্ড রানারআপ করা হয়েছে সাদিয়া ইমানকে। পঞ্চম হয়েছেন তৌহিদা তাসনিম তিফা।

সেরা দশ প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্যদিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠানটি।